অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রফিক সাহেব অর্থনীতি ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের মুদ্রাস্ফীতি পড়াতে গিয়ে বলেন যে, একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতি যথা- ব্যাংক হার, নগদ রিজার্ভের অনুপাত এবং খোলাবাজার নীতি যেমন কার্যকর ভূমিকা রাখে, তেমনিভাবে সরকারের রাজস্ব নীতি যথা- সরকারি ব্যয়, কর এবং সরকারি ঋণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি হার কী?
- খ)(2)
উদার ঋণনীতি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে।
- গ)(3)
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে উল্লিখিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের রাজস্ব নীতিগুলো কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশে সাধারণ দামস্তরের শতকরা পরিবর্তনের হারকে মুদ্রাস্ফীতির হার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদার ঋণনীতি মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেয় বা ত্বরান্বিত করে।
উদার ঋণনীতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের প্রচুর পরিমাণে ঋণ প্রদান করে। এর ফলে অর্থনীতিতে অর্থের যোগান ও তারল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অর্থের যোগান বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা সামগ্রিক চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সেই অনুপাতে পণ্যের যোগান তাৎক্ষণিকভাবে না বাড়ায় পণ্যের দামস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তীব্র মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে উল্লেখিত আর্থিক নীতির হাতিয়ারগুলোর ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে। মুদ্রাস্ফীতির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হারও বৃদ্ধি পায়, যা ঋণ গ্রহণ নিরুৎসাহিত করে এবং বাজারে অর্থের যোগান হ্রাস পায়।
২. নগদ রিজার্ভের অনুপাত (CRR) বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা রাখতে হয়। মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত হয় এবং অর্থের প্রবাহ কমে যায়।
৩. খোলাবাজার নীতি (সিকিউরিটিজ বিক্রয়): এ নীতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র, বিল বা বন্ড বিক্রয় করে। জনগণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক এগুলো ক্রয় করলে তাদের নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে আসে। ফলে বাজারে মুদ্রার যোগান সংকুচিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের রাজস্ব নীতিসমূহের কার্যকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সরকারি ব্যয় হ্রাস: মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত সামগ্রিক চাহিদা। সরকার উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল ব্যয় সাময়িকভাবে হ্রাস করে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। সরকারি ব্যয় কমলে জনগণের হাতে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে সামগ্রিক চাহিদা কমে গিয়ে দামস্তর স্বাভাবিক হয়।
২. করের হার ও পরিধি বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার বাড়িয়ে সরকার জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমিয়ে দেয়। মানুষের কাছে ব্যয়যোগ্য আয় কম থাকলে ভোগ ব্যয় হ্রাস পায়, যার ফলে সামগ্রিক চাহিদা সংকুচিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. সরকারি ঋণ গ্রহণ: সরকার সাধারণ জনগণ, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিকট ট্রেজারি বিল বা বন্ড বিক্রয়ের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এতে জনগণের হাতের অতিরিক্ত তরল অর্থ সরকারের হাতে চলে আসে, যা সামগ্রিক চাহিদা ও মুদ্রাস্ফীতি প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অতএব, রাজস্ব নীতির উল্লিখিত হাতিয়ারগুলোর যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকার অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা হ্রাস করে মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও