অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

এক সময় বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। প্রতি বছরই ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টন খাদ্য আমদানি করতে হতো। ইদানিং সরকার কৃষকদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা, উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে খাদ্য উৎপাদন পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি দূর হয়েছে।

  1. ক)

    খাদ্যের প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপমূহ আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি পদক্ষেপ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্যের প্রাপ্যতা বলতে কোনো দেশে অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদন, সরকারি-বেসরকারি মজুদ ও নিট আমদানির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের ভৌত উপস্থিতি বা সরবরাহ থাকাকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা এবং সুস্থ-সবল জীবনের জন্য নিরাপদ খাদ্য অপরিহার্য। অনিরাপদ বা ভেজালযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে পেটের পীড়া, কিডনি জটিলতা, ক্যানসারসহ নানা জটিল ও মরণব্যাধি সৃষ্টি হয়। নিরাপদ খাদ্য মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শারীরিকভাবে সক্ষম ও মেধাবী করে গড়ে তোলে। তাই স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান শর্ত 'খাদ্যের প্রাপ্যতা' নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কৃষি খাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পদক্ষেপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. কৃষিতে ভর্তুকি ও উপকরণ সহায়তা: সরকার সার, বীজ ও সেচকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়েছে এবং কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করেছে।

    ২. উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু জাতের উদ্ভাবন: খরা, লবণাক্ততা ও বন্যা সহনশীল ধান এবং ফসলের আধুনিক জাত উদ্ভাবনে গবেষণা খাতে প্রণোদনা প্রদান করেছে।

    ৩. সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ: প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা এবং স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রাপ্তি সহজতর করেছে।

    ৪. কৃষি পরামর্শ ও আধুনিকায়ন: মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    এসব পদক্ষেপের ফলেই উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্য ঘাটতি দূর হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি পদক্ষেপসমূহ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, তবে তা সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আংশিক সক্ষম, পুরোপুরি নয়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি মূল উপাদান রয়েছে:
    ১. খাদ্যের প্রাপ্যতা (Availability of food)
    ২. খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা প্রবেশাধিকার (Access to food)
    ৩. খাদ্যের পুষ্টিগত ব্যবহার (Biological utilization of food)

    সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ প্রধানত কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে 'খাদ্যের প্রাপ্যতা' নিশ্চিত করতে পুরোপুরি সফল হয়েছে। ফলে দেশ খাদ্য ঘাটতি দূর করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

    তবে শুধু উৎপাদন বা প্রাপ্যতা বাড়ালেই পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই হতে হলে:

    • জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান থাকতে হবে যাতে তারা খাদ্য কেনার সামর্থ্য অর্জন করে।
    • পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের সমবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।
    • খাদ্য নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত হতে হবে।

    অতএব বলা যায়, উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্দীপকের সরকারি পদক্ষেপ খাদ্যের প্রাপ্যতা বা প্রথম ধাপটি সফলভাবে নিশ্চিত করেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। কিন্তু এর সাথে দারিদ্র্য দূরীকরণ, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ পুষ্টি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সমন্বিত হলে তবেই সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা শতভাগ সফল হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন