অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রাজারামপুর গ্রামে বর্গাচাষি আনু মিঞা অন্যের ৫ বিঘা জমি চাষ করেন। আবাদ মৌসুমে উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের ব্যয় নির্বাহের জন্য গ্রাম্য মহাজনের নিকট চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেন। ইতোপূর্বে আনু মিঞা স্থানীয় ব্যাংকে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করেন, কিন্তু ঋণদান পদ্ধতির নানা জটিলতার কারণে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন নি।

  1. ক)

    জীবননির্বাহী খামার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'প্রকৃতি নির্ভর কৃষি' বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের একটি বড় সমস্যা'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আনু মিঞা যে উৎস থেকে আবাদ মৌসুমে ঋণ গ্রহণ করেছে, তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আনু মিঞার মতো কৃষকদের সমস্যা লাঘবের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি কি যথেষ্ট? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে খামারে কৃষক কেবল নিজের ও পরিবারের সদস্যদের খাদ্য ও জীবনধারণের প্রাথমিক চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে প্রধানত ফসল উৎপাদন করে এবং উদ্বৃত্ত বিক্রির উদ্দেশ্য থাকে না, তাকে জীবননির্বাহী খামার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের কৃষি খাত বহুলাংশে বৃষ্টিপাত, অনুকূল তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিতে সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত যেমন বাম্পার ফলনে সহায়তা করে, তেমনি অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা বা খরার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। উন্নত সেচব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক ঘাটতির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকি উৎপাদনকে অনিশ্চিত করে তোলে। এই অনিশ্চয়তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন ব্যাহত হওয়ায় 'প্রকৃতি নির্ভর কৃষি' বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আনু মিঞা আবাদ মৌসুমে অপ্রাতিষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক উৎস হিসেবে 'গ্রাম্য মহাজন'-এর নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন।

    কৃষি ঋণের যেসকল উৎসের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না, সেগুলোকে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস বলা হয়। গ্রাম্য মহাজন এ ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণের প্রাচীনতম একটি উৎস। ব্যাংকিং সুবিধার অনুপস্থিতি বা ব্যাংকের জটিল জামানত ও আমলাতান্ত্রিক কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করতে না পেরে প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা দ্রুত অর্থ পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে মহাজনের শরণাপন্ন হন। মহাজনরা খুব সহজে ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদান করলেও এর বিনিময়ে অত্যন্ত চড়া হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ দাবি করেন। আনু মিঞার মতো দরিদ্র কৃষকরা এই উচ্চ সুদের দায় মেটাতে গিয়ে প্রায়ই ঋণজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আনু মিঞার মতো প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের সমস্যা লাঘবের জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে কৃষিঋণ নীতি, বর্গাচাষিদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি (যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প), ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ এবং কৃষি ভর্তুকি কার্ড চালুর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এসব কর্মসূচি এখনও সম্পূর্ণ 'যথেষ্ট' হয়ে ওঠেনি।

    কারণস্বরূপ দেখা যায়, বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় এখনো জমির মালিকানার প্রমাণ, জটিল আবেদন প্রক্রিয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং জামানতের কড়াকড়ি বিদ্যমান থাকে। আনু মিঞার মতো ভূমিহীন ও বর্গাচাষিদের নিজস্ব জমি না থাকায় তারা প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ পাওয়ার শর্তাবলি পূরণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রবাহের সুযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় তাদেরকে মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদের ফাঁদে পড়তে হয়।

    অতএব, সরকারের পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও প্রান্তিক কৃষকদের জটিলতামুক্ত ঋণ নিশ্চিত করতে বর্গাচাষিবান্ধব ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রসারণ, জামানতবিহীন গ্রুপ-ভিত্তিক ঋণ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ না করা পর্যন্ত গৃহীত কর্মসূচিগুলোকে সামগ্রিকভাবে যথেষ্ট বলা যায় না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন