অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
‘B’ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটির সর্বশেষ আদমশুমারি তথ্য অনুযায়ী নারী ও পুরুষের অনুপাত হচ্ছে ১০০ : ১০০.৫। মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী হলেও বিভিন্ন কারণে তারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারার বাইরে। তাই দেশটির সরকার নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে উপবৃত্তি প্রদান, বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদান, ইভটিজিং বন্ধে আইন প্রণয়নসহ নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- ক)(1)
গাণিতিক বৃদ্ধির হার কী?
- খ)(2)
দরিদ্রতা জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে কীভাবে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নারী উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নারীর ক্ষমতায়ন কীভাবে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যার যে বৃদ্ধি নির্দিষ্ট অন্তর বা সমান্তর ধারায় ঘটে (যেমন: ১, ২, ৩, ৪, ৫...), অর্থাৎ প্রতি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বা হারে বৃদ্ধি পায়, তাকে গাণিতিক বৃদ্ধির হার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্রতা জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাড়িয়ে তোলে। দরিদ্র পরিবারগুলোতে শিক্ষার আলো না থাকায় তারা সচেতন নয় এবং পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারে না। এছাড়া দরিদ্র পিতামাতা অতিরিক্ত সন্তানকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার উৎস এবং অতিরিক্ত উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। অল্প বয়সেই সন্তানদের উপার্জনে নিয়োজিত করার প্রবণতা এবং কন্যা সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার ফলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে জন্মহার বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'B' দেশের সরকার নারী উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে:
১. শিক্ষাবৃত্তি প্রদান: নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে বিশেষ উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে, যা বাল্যবিয়ে হ্রাস ও নারী শিক্ষার হার বাড়াতে সহায়ক।
২. কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার: অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকুরির ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার বা কোটা সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
৩. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা: নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং বিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন এবং সার্বিক নারী ও শিশু কল্যাণে পৃথক 'নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচি নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারীর ক্ষমতায়ন জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ নারী; তাদের অনুৎপাদনশীল রেখে টেকসই জাতীয় উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।
নারীর ক্ষমতায়ন জাতীয় উন্নয়নে নিম্নলিখিত উপায়ে ভূমিকা রাখবে:
১. উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি: নারীরা শিক্ষিত ও দক্ষ হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলে জাতীয় উৎপাদন (GDP) এবং মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
২. পারিবারিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: নারী আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে পরিবারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির পেছনে ব্যয় বাড়ে, যা একটি দক্ষ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমতা ও দারিদ্র্য বিমোচন: নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সমাজের জেন্ডার বৈষম্য হ্রাস পায়, নারীর ওপর সহিংসতা কমে এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভাঙা সহজ হয়।
৪. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়, ফলে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আসে।সুতরাং, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষেই সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও