পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
নয় মাসের এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে 'ব' নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার এক বছরের মাথায় জনগণের মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, সংসদীয় সরকার ও আরো বহুবিধ নীতি সম্বলিত সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ঐ বছরই ১৬ই ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। আইনসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। 'ব' রাষ্ট্রের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে।
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ব' রাষ্ট্রটির সংবিধানের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত কোন সংবিধানের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্বের সেরা একটি সংবিধান- তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে রাষ্ট্রের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা, আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় মৌলিক আদর্শ ও নির্দেশাবলিকে বোঝায়। সংবিধানে উল্লেখিত এ নীতিগুলো রাষ্ট্রের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সমাজব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। সাধারণত এগুলো আদালত কর্তৃক সরাসরি বলবৎযোগ্য না হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ এগুলো মেনে চলতে নৈতিকভাবে বাধ্য থাকে। যেমন- বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ব' রাষ্ট্রটির সংবিধানের সাথে পাঠ্যপুস্তকের বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানে গৃহীত হওয়া, ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এবং এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হওয়া—এসব তথ্য স্পষ্টভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানকেই নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. লিখিত সংবিধান: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এতে একটি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৪টি (বর্তমানে ৭টি) তফসিল রয়েছে।
২. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: এ সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
৩. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: সংবিধানে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়ী থাকে।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানে চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
৫. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও স্বাধীনতার জন্য সংবিধানে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং তা লঙ্ঘিত হলে আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধানটি হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও প্রগতিশীল সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিসঙ্গত। নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
১. জনগণের সার্বভৌমত্ব: সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এটি গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ আদর্শকে প্রতিফলিত করে।
২. মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সংবিধানে নাগরিকদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসহ তৃতীয় ভাগে ১৮টি মৌলিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২-এর মাধ্যমে এসব অধিকার সুরক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টে রিট করার আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
৩. শোষণমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার: এ সংবিধানে সমাজতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, যা ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে একটি সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় নিপীড়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. সংবিধানের প্রাধান্য: সংবিধানে বলা হয়েছে যে, সংবিধানই প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য যেকোনো আইন যদি সংবিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।সংক্ষেপে বলা যায়, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্যস্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বল্পতম সময়ে (মাত্র ১০ মাসে) এমন একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলিল রচনা করা নিঃসন্দেহে এক অনন্য অর্জন। তাই সামগ্রিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সংবিধানকে বিশ্বের সেরা সংবিধানগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও