ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বনামধন্য 'সেন্ট্রাল গার্মেন্টস' চেয়ারম্যানের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর শ্বশুর মি, মাহিন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন। সমস্যা মোকাবিলার জন্য তিনি 'কঠোরনীতি' গ্রহণ করেন। অবাধ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তিনি বরখাস্ত করেন এবং চেয়ারম্যানের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিজ অফিস কক্ষটি জমকালোভাবে সজ্জিত করেন। প্রশাসনিক শক্তি সম্পর্কে কর্মচারীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ। করেন। তিনি অফিসে সার্বক্ষণিক নজরদারিরও ব্যবস্থা করেন। ফলে সর্বক্ষেত্রে তাঁর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে 'সেন্ট্রাল গার্মেন্টস' পুনরায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- ক)(1)
কোন সুলতান মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন?
- খ)(2)
মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়াসউদ্দিন বলবন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. মাহিনের 'কঠোর নীতি'র সাথে দিল্লি সালতানাতের কোন সুলতানের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মি. মাহিনের সাথে উক্ত সুলতানের রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি পরিহার করে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত দুর্গগুলো সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন, নতুন দুর্গ স্থাপন করেন এবং সেখানে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত সেনাপতিদের অধীনে শক্তিশালী সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। এছাড়া সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব তিনি তাঁর দুই যোগ্য পুত্র মুহাম্মদ ও বুগরা খানের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. মাহিনের 'কঠোর নীতি'র সাথে দিল্লি সালতানাতের সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের 'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy)-র সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। সুলতান বলবন সিংহাসনে আরোহণ করে চরম বিশৃঙ্খলা, অবাধ্য আমীর-ওমরাহ এবং চল্লিশ চক্রের ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েন। তিনি কঠোর হস্তে বিদ্রোহীদের দমন করেন, গুপ্তচর ব্যবস্থার মাধ্যমে সর্বত্র নজরদারি রাখেন এবং অবাধ্যদের মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি দেন। একইভাবে উদ্দীপকের মি. মাহিনও দায়িত্ব গ্রহণ করে দুর্নীতিরোধে অবাধ্যদের বরখাস্ত ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, যা বলবনের গৃহীত নীতির অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. মাহিন এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের রাজকীয় মর্যাদা ও কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পদক্ষেপগুলোর মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। বলবনের সময়ে চল্লিশ চক্র ও অন্যান্য আমীরদের প্রভাবে সুলতানের মর্যাদা হ্রাস পেয়েছিল। বলবন রাজতন্ত্রের ঐশ্বরিক অধিকার তত্ত্বে বিশ্বাসী হয়ে নিজেকে 'জিলিল্লাহ' (আল্লাহর ছায়া) ও 'নিয়াবত-ই-খোদাই' হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি দরবারে সিজদা ও পাইবস প্রথা চালু করেন, দরবারের জাঁকজমক বৃদ্ধি করেন এবং জনসাধারণের সাথে সহজে মেলামেশা বন্ধ করে দেন। উদ্দীপকেও মি. মাহিন চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা ও ভীতি সঞ্চার করতে অফিস জমকালো করেন এবং কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেন। উভয়ের মূল লক্ষ্যই ছিল কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং, পদক্ষেপ ও ফলাফলের দিক থেকে উদ্দীপকের মি. মাহিনের কার্যক্রম বলবনের রাজকীয় মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়াসেরই আধুনিক রূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও