বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ফুয়াদ ছোটবেলা থেকেই মুখস্থ পড়া বলতে পারত না। লিখতে গেলেই বইয়ের হুবহু তথ্য উপাত্ত লিখতে পারতো না। তবে কোনো বিষয়বস্তু পেলেই দীর্ঘক্ষণ, দীর্ঘ পরিসরে লিখতে পারতো। কিন্তু সম্প্রতি সে শিক্ষক ও তার মায়ের চাপে মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। এতে সে শারীরিক-মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে এখন সে মুখস্থের বাইরে সাধারণ কোনো বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে পারে না। নিজের চিন্তা-চেতনা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়।
- ক)(1)
মনের আক্ষেপ মিটাতে মাঝে মাঝে কী করতে হয়?
- খ)(2)
আমাদের শব্দ করার সময় নেই কেন? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ফুয়াদের মাঝে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের প্রতিফলিত দিক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে বর্ণিত ফুয়াদের পরিণতি থেকে মুক্তির পথ ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে।”—মন্তব্যটির মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- গ)
উদ্দীপকের ফুয়াদের মাঝে 'বই পড়া' প্রবন্ধের মুখস্থ বিদ্যার নেতিবাচক দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, কেবল পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করা যায়, কিন্তু তাতে মনের বিকাশ ঘটে না ও চিন্তাশক্তি জাগে না। উদ্দীপকে ফুয়াদ শিক্ষক ও মায়ের চাপে মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। ফলে সে মুখস্থের বাইরে কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে বা নিজের চিন্তা-চেতনা প্রয়োগ করতে পারে না। এটি প্রবন্ধে বর্ণিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার ফল।
- ঘ)
উদ্দীপকে ফুয়াদের পরিণতি থেকে মুক্তির পথ 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে, মন্তব্যটি যথার্থ।
১. স্বেচ্ছায় বই পড়া: প্রবন্ধে লেখক চাপে মুখস্থ করার বদলে নিজের আগ্রহে বই পড়ার পরামর্শ দেন। এতে মন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়, ফুয়াদের শারীরিক-মানসিক চাপও কমে।
২. চিন্তাশক্তির বিকাশ: বই পড়ে নতুন ভাবনা, কল্পনা ও যুক্তির ক্ষমতা তৈরি হয়। ফুয়াদ যে নিজের চিন্তা-চেতনা প্রয়োগ করতে পারছে না, তার সমাধান এখানেই।
৩. সৃজনশীলতার চর্চা: ফুয়াদ বিষয়বস্তু পেলে ভালো লিখতে পারত। সাহিত্য ও বিচিত্র বই পড়লে এ ক্ষমতা আরও বাড়ত এবং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা সহজ হতো।সুতরাং, মুখস্থের বদলে স্বাধীন ও আগ্রহভিত্তিক বই পড়ার অভ্যাসই ফুয়াদের মুক্তির পথ, যা প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও