অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দবিউর সাহেব একজন প্রবাসী। তিনি আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়ে দেখেন, সেসব দেশের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০১৫ থেকে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার এবং চামড়া শিল্পের রপ্তানি আয় সম্পর্কিত নিম্নরূপ তথ্য সংগ্রহ করেন।মিলিয়ন মার্কিন ডলারে,

পণ্য | ২০০৪-০৫ | ২০১১-১২ | ২০১২-১৩ | ২০১৩-১৪
তৈরি পোশাক ও নিটওয়‍্যার | ৬,৪১৭.৬৭ | ১৯,০৮৯.৭৩ | ২১,৫১৬ | ২১,৫১৬

  1. ক)

    মাঝারি শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'আমদানি বিকল্প শিল্প দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণ করে'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে তৈরি পোশাক ও নিটওয়‍্যার শিল্পের রপ্তানি আয়ের গতি ধারা বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটির সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০ অনুসারে, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা যেগুলোতে ১২০ জন থেকে ২৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, সেগুলোকে মাঝারি শিল্প বলে। (সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে স্থায়ী সম্পদ ১ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা বা ৫০ থেকে ১২০ জন শ্রমিক)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমদানি বিকল্প শিল্প হলো বিদেশে উৎপাদিত যেসব পণ্য দেশীয় চাহিদা মেটাতে আমদানি করা হয়, সেগুলোর পরিবর্তে দেশেই সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা শিল্প।

    আমদানি বিকল্পায়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো দেশীয় নবীন ও উদীয়মান শিল্পকে বৈদেশিক তীব্র প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা বা সংরক্ষণ প্রদান করা। সরকার আমদানি পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক, কোটা বা অশুল্ক বাধা আরোপ করে আমদানিকে ব্যয়বহুল ও নিরুৎসাহিত করে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষা পায়, বিনিয়োগ উৎসাহিত হয় এবং দেশীয় শিল্প বিকাশের পথ সুগম হয়। এভাবে আমদানি বিকল্প শিল্প দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৫ অনুযায়ী ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের রপ্তানি আয়ের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ছকটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল ৬,৪১৭.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তীকালে ২০১১-১২ অর্থবছরে তা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৯,০৮৯.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই আয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২১,৫১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও এই প্রবৃদ্ধির গতি বজায় ছিল।

    সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্য নির্দেশ করে যে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের রপ্তানি আয়ের গতিধারা অত্যন্ত ইতিবাচক ও ক্রমবর্ধমান, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জন করে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের 'তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্প' (পাশাপাশি চামড়া শিল্পের উল্লেখ রয়েছে, তবে মূল তথ্য তৈরি পোশাক সংক্রান্ত)। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ শিল্পের সম্ভাবনা অপরিসীম।

    ১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। উদ্দীপকে যেমন দেখা যায়, আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নতুন নতুন বাজার (যেমন- জাপান, অস্ট্রেলিয়া, লাতিন আমেরিকা) সৃষ্টির মাধ্যমে এ আয় আরও বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

    ২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়ন: এ শিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে, যার সিংহভাগই নারী। এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।

    ৩. মূল্য সংযোজন (Value Addition): পশ্চাৎসংযোগ শিল্প (Backward linkage) যেমন- সুতা, বোতাম, প্যাকেজিং ইত্যাদি দেশেই ব্যাপকভাবে গড়ে ওঠায় তৈরি পোশাক খাতের ভ্যালু অ্যাডিশন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।

    ৪. ডাইভারসিফিকেশন ও চামড়া শিল্পের সাথে সংযোগ: তৈরি পোশাকের পাশাপাশি উচ্চ মূল্যের পোশাক এবং উদ্দীপকে উল্লেখিত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের যৌথ বিকাশ ঘটালে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে অভূতপূর্ব বিপ্লব সম্ভব।

    তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) কারখানা স্থাপন এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উপযুক্ত নীতি সহায়তা পেলে এ শিল্পটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে রূপকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন