অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
অর্থনীতি ক্লাসে প্রফেসর আঃ মান্নান ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য খাজনা নির্ধারণ সম্পর্কে দুটি তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বের সমস্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক অর্থনীতিবিদগণ খাজনা সম্পর্কিত এ তত্ত্বটি প্রদান করেন।
- ক)(1)
অনুপার্জিত আয় কাকে বলে?
- খ)(2)
জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির কার্যকারিতার দরুন খাজনার উদ্ভব হয়— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
খাজনা নির্ধারণের ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক অর্থনীতিবদগণের ধারণার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আধুনিক অর্থনীতিবিদগণ কীভাবে খাজনা নির্ধারণের তত্ত্ব তুলে ধরেছেন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জমির মালিকের কোনো নিজস্ব প্রচেষ্টা বা শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই সমাজের উন্নতি বা পারিপার্শ্বিক কারণে জমির দাম বা ভাড়া বেড়ে যে বাড়তি আয় অর্জিত হয়, তাকে অনুপার্জিত আয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হওয়ার ফলেই খাজনার উদ্ভব ঘটে। জমিতে যখন ক্রমাগত অধিক শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করা হয়, তখন মোট উৎপাদন বাড়লেও প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদনের প্রান্তিক ব্যয় বৃদ্ধি পায়। বাজারদর এই ক্রমবর্ধমান প্রান্তিক ব্যয়ের সমান হলে পূর্ববর্তী এককগুলোতে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়। এই অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আয়ই খাজনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জমিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য না হলে একটি জমিতেই অসীম ফসল ফলানো যেত এবং কোনো খাজনা সৃষ্টি হতো না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাজনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক অর্থনীতিবিদদের ধারণার মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. খাজনার কারণ ও ক্ষেত্র: ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদদের (যেমন- ডেভিড রিকার্ডো) মতে, খাজনা কেবল জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং জমির উর্বরতা ও অবস্থানের পার্থক্যের কারণে খাজনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু আধুনিক অর্থনীতিবিদদের (যেমন- জোয়ান রবিনসন) মতে, খাজনা কেবল জমিতে সীমাবদ্ধ নয়; স্থিতিস্থাপকতা কম বা অপূর্ণ স্থিতিস্থাপক এমন যেকোনো উৎপাদন উপাদানের ক্ষেত্রেই খাজনা দেখা দিতে পারে।
২. উৎপাদনের ব্যয় ও উপাদান: রিকার্ডোর মতে, খাজনা দামের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং দাম বাড়লে খাজনা বাড়ে। আধুনিক তত্ত্বে খাজনাকে সুযোগ ব্যয়ের অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত হিসেবে দেখা হয় এবং উপাদানটির যোগান দামের চেয়ে প্রাপ্ত বাড়তি আয়ই খাজনা।
৩. নির্ধারণ পদ্ধতি: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বে প্রান্তিক ও অধস্তন জমির উৎপাদনের পার্থক্যের ভিত্তিতে খাজনা নির্ধারিত হয়। কিন্তু আধুনিক তত্ত্বে সাধারণ চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে উপাদানের খাজনা নির্ধারিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক অর্থনীতিবিদগণের মতে, অন্যান্য দ্রব্যের মতো যেকোনো উৎপাদন উপাদানের চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমেই খাজনা নির্ধারিত হয়। কোনো উপাদানের মোট আয় থেকে তার সুযোগ ব্যয় বাদ দিলে যে উদ্বৃত্ত থাকে, তাকে আধুনিক খাজনা বলে (খাজনা = প্রকৃত আয় - স্থানান্তর আয় বা সুযোগ ব্যয়)।
তত্ত্বটির চিত্রভিত্তিক ব্যাখ্যা:
একটি রেখাচিত্রে ভূমি অক্ষে উপাদানের পরিমাণ (যেমন জমির পরিমাণ) এবং লম্ব অক্ষে খাজনা বা উপাদানের দাম নির্দেশ করা হয়।
উপাদানের চাহিদা রেখা (D) বাম থেকে ডানে নিম্নগামী এবং যোগান রেখা (S) বাম থেকে ডানে ঊর্ধ্বগামী (বা বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক/উল্লম্ব)।
যে বিন্দুতে চাহিদা রেখা (D) ও যোগান রেখা (S) পরস্পর ছেদ করে (ভারসাম্য বিন্দু E), সেখানে ভারসাম্যের ভিত্তিতে উপাদানের খাজনা (R) এবং উপাদানের পরিমাণ (Q) নির্ধারিত হয়।যদি উপাদানের যোগান সম্পূর্ণরূপে অস্থিতিস্থাপক হয় (উল্লম্ব যোগান রেখা), তবে উপাদানের সমগ্র আয়ই খাজনা হিসেবে গণ্য হয় কারণ তার সুযোগ ব্যয় শূন্য। আর যদি যোগান আংশিক স্থিতিস্থাপক হয় (ঊর্ধ্বগামী যোগান রেখা), তবে ভারসাম্য বিন্দু থেকে যোগান রেখার ওপরের এবং ভারসাম্য দাম রেখার নিচের ক্ষেত্রফলটুকু হলো অর্থনৈতিক খাজনা।
এভাবেই চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং সুযোগ ব্যয়ের ধারণার মাধ্যমে আধুনিক অর্থনীতিবিদগণ খাজনা নির্ধারণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও