যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

২০১৯ সালের শেষদিকে পৃথিবীর অনেক মানুষ অজানা একটি 'রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা শুরু করে। আফ্রিকার মানুষ ভাবল, কোনো দৈবশক্তির অভিশাপ এই রোগের কারণ। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বললেন, করোনা নামক ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে এই রোগের উৎপত্তি।এই রোগের নাম COVID-19।

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাখ্যার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আফ্রিকার মানুষের ভাবনায় ব্যাখ্যার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তার বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে আফ্রিকার মানুষ এবং বৈজ্ঞানিকদের বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জটিল, অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাই হলো ব্যাখ্যা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যার প্রকৃতি হলো কোনো ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ আবিষ্কার করে তার অস্পষ্টতা দূর করা। কোনো জটিল বা রহস্যময় ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে তার পেছনের প্রকৃত নিয়ম বা কার্যকারণ সম্পর্ক উন্মোচন করার মাধ্যমে মানুষের মনের জিজ্ঞাসা দূর করাই ব্যাখ্যার মূল কাজ। ব্যাখ্যা সবসময় ব্যক্তিভেদে বা দৃষ্টিভঙ্গিভেদে ভিন্ন হতে পারে, যার ফলে এটি বৈজ্ঞানিক বা লৌকিক উভয় রূপেই প্রকাশ পেতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আফ্রিকার মানুষের ভাবনায় ব্যাখ্যার যে রূপ ফুটে উঠেছে তা হলো ‘লৌকিক ব্যাখ্যা’।

    লৌকিক ব্যাখ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা: লৌকিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক কোনো ঘটনার কারণ হিসেবে ভূত-প্রেত, দৈবশক্তি বা অলৌকিক ক্ষমতাকে দায়ী করা হয়। উদ্দীপকেও রোগটির কারণ হিসেবে দৈবশক্তির অভিশাপকে দায়ী করা হয়েছে।
    ২. কার্যকারণ সম্পর্কের অনুপস্থিতি: এতে কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা বাস্তব কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান করা হয় না; অন্ধবিশ্বাসই এর ভিত্তি।
    ৩. যাচাইযোগ্যতার অভাব: এ ধরনের ব্যাখ্যা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা বা যাচাই করা যায় না।
    ৪. ব্যক্তিনিষ্ঠতা: এটি মানুষের সাধারণ কুসংস্কার ও ব্যক্তিগত ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সার্বজনীন নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আফ্রিকার মানুষের বক্তব্য এবং বিজ্ঞানীদের বক্তব্য যথাক্রমে যুক্তিবিদ্যার ‘লৌকিক ব্যাখ্যা’ এবং ‘বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’কে নির্দেশ করে। নিম্নে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    প্রথমত, ভিত্তির দিক থেকে আফ্রিকার মানুষের বক্তব্যটি কুসংস্কার ও অজ্ঞতাপ্রসূত অলৌকিক শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে বিজ্ঞানীদের বক্তব্যটি যুক্তিনির্ভর, বস্তুনিষ্ঠ এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    দ্বিতীয়ত, কার্যকারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আফ্রিকার মানুষ রোগের সঙ্গে দৈবশক্তির মনগড়া যোগসূত্র স্থাপন করেছে, যেখানে কোনো বাস্তব সম্পর্ক নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা রোগের কারণ হিসেবে ‘করোনা’ নামক ভাইরাসের সংক্রমণকে সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সম্পর্কের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছেন।

    তৃতীয়ত, যাচাইযোগ্যতার দিক থেকে লৌকিক ব্যাখ্যা যাচাই করা সম্ভব নয়, কারণ দৈব অভিশাপের কোনো প্রমাণ মেলে না। কিন্তু বিজ্ঞানীদের বক্তব্য ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রমাণ ও যাচাইযোগ্য।

    চতুর্থত, সার্বজনীনতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা বিশ্বের সর্বত্র সত্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যেখানে আফ্রিকার মানুষের বিশ্বাস ছিল স্থানীয় ও ভ্রান্ত।

    পরিশেষে বলা যায়, আফ্রিকার মানুষের বক্তব্যটি ভ্রান্ত ও অবৈজ্ঞানিক লৌকিক ব্যাখ্যা, আর বিজ্ঞানীদের বক্তব্যটি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন