‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দুর্নীতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্যে ভেজাল রোধ করা প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    ‘ক' শাসনব্যবস্থা দ্বারা কোন ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'গণতন্ত্র বিকাশে 'খ' শাসনব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ- যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের জন্য অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করাকে দুর্নীতি বলে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারই হলো দুর্নীতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখা এবং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধের জন্য খাদ্যে ভেজাল রোধ করা প্রয়োজন।

    খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের ফলে মানুষের শরীরে ক্যান্সার, কিডনি নষ্ট, লিভারের ক্ষতিসহ নানা রকমের প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিশুরা ভেজাল খাদ্যের বিষক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও মেধাবী জাতি গঠনের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য। তাই সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও দেশের অস্তিত্ব সুরক্ষায় খাদ্যে ভেজাল রোধ করা জরুরি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ শাসনব্যবস্থা দ্বারা ‘একনায়কতান্ত্রিক’ শাসনব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।

    একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সমুদয় ক্ষমতা একজন ব্যক্তি বা একটিমাত্র দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং সেখানে জনগণের স্বাধীনতা বা অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, ‘ক’ শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাধান্য বিদ্যমান, জনগণের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই, ক্ষুদ্র স্বার্থ প্রশাসন পরিচালিত হয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে না এবং সরকারপ্রধানের ইচ্ছানুযায়ী নীতি নির্ধারিত হয়। এ বৈশিষ্ট্যগুলো পুরোপুরিভাবে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। একনায়কতন্ত্রে শাসকই সব ক্ষমতার উৎস, যেখানে জনগণের কোনো মৌলিক অধিকার বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না এবং পুরো শাসনব্যবস্থা শাসকের একক নির্দেশে চলে। অতএব, উদ্দীপকের ‘ক’ শাসনব্যবস্থা একনায়কতন্ত্রকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গণতন্ত্র বিকাশে উদ্দীপকের ‘খ’ শাসনব্যবস্থা অর্থাৎ ‘স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন বা বিকেন্দ্রীকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকের ছকে ‘খ’ শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ, জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা, বৃহৎ স্বার্থে প্রশাসন পরিচালনা, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং শাসনকার্যের পূর্ণাঙ্গ নীতি ও আইনের দ্বারা নীতি নির্ধারিত হওয়া। এসব বৈশিষ্ট্য মূলত স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন বা সুশাসিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল উপাদান।

    গণতন্ত্র বিকাশে এই শাসনব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: এ ব্যবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ শাসনকাজে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
    ২. নেতৃত্বের বিকাশ: তৃণমূল পর্যায় থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক হয়।
    ৩. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: ক্ষমতা এককেন্দ্রীভূত না হয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে বণ্টন হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
    ৪. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধানের প্রক্রিয়া নাগরিকদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে।

    পরিশেষে বলা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চা ও জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ‘খ’ শাসনব্যবস্থা সার্বিক গণতন্ত্রকে সুসংহত ও বিকশিত করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন