যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
গীতা ও মীতা দুজন বান্ধবী। গীতা বলল, প্রত্যেক মানুষের চিন্তা ও অনুমান করার ক্ষমতা আছে। এর মাধ্যমে তারা সত্যকে গ্রহণ ও মিথ্যাকে বর্জন করে। মীতা বলল, ঠিক বলেছো। তবে মানুষের আরো কিছু গুণ থাকা দরকার যার মাধ্যমে ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিচার করতে পারে। ব্যবসায় ও পেশাগত জীবনে এটি অতীব প্রয়োজনীয়।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কী?
- খ)(2)
নীতিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
মীতার বক্তব্য তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে গীতা ও মীতার বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা হলো বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি ও নীতিসমূহের বিজ্ঞান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নীতিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কারণ এটি মানুষের আচরণের একটি সুনির্দিষ্ট পরম আদর্শ বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও উচিত-অনুচিত বিচার করে। নীতিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো 'পরম কল্যাণ' (Supreme Good)। এটি কেবল মানুষের আচরণ কেমন তা বর্ণনা করে না, বরং সমাজে মানুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করে বলে একে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মীতার বক্তব্য পাঠ্যপুস্তকের 'নীতিবিদ্যা' (Ethics) বা যুক্তিবিদ্যার সাথে নীতিবিদ্যার সম্পর্কযুক্ত দিকটিকে নির্দেশ করে।
নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণ সংক্রান্ত আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় এবং ঔচিত্যবোধ বিচার ও মূল্যায়ন করে। কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা এবং পেশাগত জীবনে সততা ও নৈতিকতার চর্চা সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।
উদ্দীপকে মীতা মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিচার করার গুণ এবং ব্যবসা ও পেশাগত জীবনে এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। এই বক্তব্যটি সরাসরি নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় তথা নৈতিক মূল্যবোধ ও পেশাগত নৈতিকতাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গীতার বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার মৌলিক স্বরূপকে এবং মীতার বক্তব্য নীতিবিদ্যার পরিধিকে নির্দেশ করে। নিচে উভয়ের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. বিষয়ের প্রকৃতি: গীতার বক্তব্য অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, তা যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য তথা মানুষের চিন্তা ও অনুমানের মাধ্যমে সত্যকে অর্জন এবং মিথ্যাকে বর্জন করার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে যুক্তির বৈধতা ও অবৈধতা বিচার করে। অন্যদিকে, মীতার বক্তব্য নীতিবিদ্যার দিককে তুলে ধরে, যা মানুষের ইচ্ছা ও আচরণের ভালো-মন্দ এবং উচিত-অনুচিত বিচার করে এবং এর আদর্শ হলো 'পরম কল্যাণ'।
২. উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: যুক্তিবিদ্যার উদ্দেশ্য হলো চিন্তার সত্যতা রক্ষা করা এবং বিভ্রান্তি দূর করা। অপরপক্ষে, নীতিবিদ্যার উদ্দেশ্য হলো মানুষের সামাজিক ও পেশাগত জীবনে নৈতিক চরিত্র গঠন এবং সঠিক আচরণের দিকনির্দেশনা দেওয়া।
৩. পারস্পরিক নির্ভরতা: মানুষের জন্য দুটি বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরস্পরের পরিপূরক। সঠিক চিন্তা ও অনুমান ছাড়া সঠিক নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, আবার নীতিবোধ ও ন্যায়-অন্যায় চেতনা ছাড়া সত্যের উপলব্ধি জীবনে স্বার্থকভাবে প্রয়োগ করা যায় না।
অতএব, গীতার বক্তব্য জ্ঞানতাত্ত্বিক বা যৌক্তিক চিন্তার ভিত্তি স্থাপন করে এবং মীতার বক্তব্য সেই চিন্তাকে বাস্তব জীবনে নৈতিকভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও