জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ম্যাক্রোমৌল কী?
- খ)(2)
ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের E বস্তুর বিকাশ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
যৌন জননের ক্ষেত্রে E এবং F এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যে সব খনিজ পুষ্টি উপাদান অপেক্ষাকৃত অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোমৌল বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
C4 উদ্ভিদের পাতার প্রস্থচ্ছেদে ভাস্কুলার বান্ডলকে ঘিরে ঘনসন্নিবিষ্ট, বড় ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত বান্ডল সিথ কোষ দ্বারা তৈরি যে বিশেষ ধরনের বলায় বা মালার মতো অভ্যন্তরীণ গঠন পরিলক্ষিত হয়, তাকে ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বলে।
'Kranz' একটি জার্মান শব্দ যার অর্থ পুষ্পমাল্য বা wreath। এ ধরনের শারীরস্থানিক বৈশিষ্ট্যে মেসোফিল কোষ এবং বান্ডল সিথ কোষ—উভয় ধরনের কোষে ভিন্ন রূপের ক্লোরোপ্লাস্ট অবস্থান করে (ক্লোরোপ্লাস্ট ডাইমর্ফিজম), যা C4 চক্রের জন্য অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে E বস্তুটি হলো পরাগরেণু (Pollen grain)। নিম্নে পরাগরেণুর বিকাশ তথা পুং-গ্যামিটোফাইটের উৎপত্তি ও বিকাশ বর্ণনা করা হলো:
১. পরাগরেণু পুং-গ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। এটি হ্যাপ্লয়েড (n)। পরাগরেণুর প্রাচীর দুটি স্তরে গঠিত—বাইরের এক্সাইন (Exine) এবং ভেতরের ইনটাইন (Intine)।
২. বিকাশ প্রক্রিয়ার শুরুতে পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অসমান নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এদের মধ্যে বড়টিকে নালিকা নিউক্লিয়াস (Tube nucleus) এবং অপেক্ষাকৃত ছোটটিকে জনন নিউক্লিয়াস (Generative nucleus) বলে।
৩. এই দুই নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট অবস্থায় পরাগরেণু সাধারণত পরাগায়িত হয়ে স্ত্রীস্তবকের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়।
৪. গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণু মিষ্টি রস শোষণ করে স্ফীত হয় এবং এর ইনটাইনটি কোনো একটি রেনুরন্ধ্র দিয়ে নালিকারূপে বের হয়ে পরাগনালিকা (Pollen tube) গঠন করে।
৫. পরাগনালিকার অগ্রভাগে নালিকা নিউক্লিয়াস অবস্থান করে এবং এর পেছনে জনন নিউক্লিয়াস থাকে। পরবর্তীতে জনন নিউক্লিয়াসটি আবার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি পুংজনন কোষ বা শুক্রাণু (Male gamete) তৈরি করে। নালিকা নিউক্লিয়াসটি ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এভাবেই E বস্তুর বিকাশ সম্পন্ন হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে E হলো পরাগরেণু (যার মাধ্যমে পুংজনন কোষ বা শুক্রাণু সৃষ্টি হয়) এবং F হলো ভ্রূণথলির মধ্যকার ডিম্বাণু (Egg)। আবৃতবীজী উদ্ভিদের যৌন জনন প্রক্রিয়ায় এদের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিষেক ও জাইগোট সৃষ্টি: যৌন জননের মূল ভিত্তি হলো শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন (নিষেক)। পরাগরেণু (E) থেকে উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড পুং-গ্যামেটের সাথে ডিম্বকস্থ হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু (F) মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠন করে, যা পরবর্তী উদ্ভিদের সূচনা করে।
২. ভ্রূণ ও বীজ গঠন: নিষিক্ত ডিম্বাণু (জাইগোট) মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং সমগ্র ডিম্বকটি বীজে রূপান্তরিত হয়। এই বীজ ভবিষ্যৎ বংশধরের ধারক।
৩. দ্বিনিষেক ও শস্য সৃষ্টি: পরাগরেণু থেকে দুটি শুক্রাণু আসে। এর একটি ডিম্বাণু (F) এর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের (2n) সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) শস্য কোষ গঠন করে। এই শস্যকলার পুষ্টি নিয়েই বর্ধনশীল ভ্রূণ বেড়ে ওঠে।
৪. বংশগতি রক্ষা ও প্রকরণ সৃষ্টি: E এবং F উভয়েই মায়োসিস বিভাজনের ফলে তৈরি হওয়ায় এদের মধ্যে জিনগত পরিবর্তন ও রিকম্বিনেশন ঘটে। এদের মিলনের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়, যা উদ্ভিদের টিকে থাকা ও অভিব্যক্তি বা বিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, ফল ও বীজ সৃষ্টি, বংশ রক্ষা এবং জিনগত প্রকরণ বজায় রাখতে যৌন জননে E (পরাগরেণু) এবং F (ডিম্বাণু)-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও