সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১: সুমন তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করে। ঘটনা-২: ফরিদ তার মামাতো বোনকে বিয়ে করে।
- ক)(1)
'The History of Human Marriage' বইটি কার লেখা?
- খ)(2)
প্রথাগত জ্ঞাতি কী? বুঝিয়ে বলো।
- গ)(3)
ঘটনা-২ কোন ধরনের বিবাহ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘটনা-১-এর বিবাহের সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'The History of Human Marriage' বইটি এডওয়ার্ড ওয়েস্টারমার্কের (Edward Westermarck) লেখা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রথাগত বা ব্যবহারিক জ্ঞাতি হলো এমন এক ধরনের সামাজিক সম্পর্ক যা রক্ত বা বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে সমাজের ঐতিহ্য, প্রথা বা রীতি অনুযায়ী জ্ঞাতির মর্যাদা পায়। যেমন— কোনো গ্রামে বয়োজ্যেষ্ঠ কাউকে রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও কাকা, দাদা বা জ্যাঠা বলে সম্বোধন করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-২ হলো 'বিষম সমান্তরাল কাজিন বিবাহ' বা 'ক্রস-কাজিন বিবাহ' (Cross-cousin marriage)।
পিতা-মাতার বিপরীত লিঙ্গের সহোদর ভাই-বোনের সন্তানদের মধ্যে যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় তাকে ক্রস-কাজিন বা বিষম জ্ঞাতি বিবাহ বলে। অর্থাৎ মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোনের মধ্যে সংঘটিত বিবাহই হলো ক্রস-কাজিন বিবাহ।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায় ফরিদ তার মামাতো বোনকে বিয়ে করেছে। মামা হলেন ফরিদের মায়ের সহোদর ভাই (বিপরীত লিঙ্গের সহোদর)। সুতরাং তাদের সন্তানদের মধ্যকার এই বিবাহ রূপটি সমাজবিজ্ঞানের পরিভাষায় ক্রস-কাজিন বিবাহ হিসেবে পরিচিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ সুমনের বিবাহটি হলো শালী-বিবাহ (Sororate Marriage)। এর সামাজিক গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
স্ত্রী মারা যাওয়ার পর স্ত্রীর কোনো অবিবাহিত ছোট বোন বা শালীকে বিবাহ করার সামাজিক রীতিকে শালী-বিবাহ বা সরোরেট বলে। উদ্দীপকে সুমন তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করায় এটি স্পষ্টভাবে শালী-বিবাহের উদাহরণ।
এ ধরনের বিবাহের সামাজিক গুরুত্বসমূহ নিম্নরূপ:
১. পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা: স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই পরিবারের মধ্যকার বৈবাহিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, শালী-বিবাহের মাধ্যমে তা রক্ষা পায় এবং বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
২. মাতৃহীন সন্তানের সুরক্ষা: আগের সংসারে যদি সন্তান থাকে, তবে সৎমায়ের তুলনায় আপন খালা মা হিসেবে সন্তানদের অনেক বেশি স্নেহ, মায়া-মমতা ও সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। এতে মাতৃহীন শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ স্বাভাবিক থাকে।
৩. নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো: পাত্রী পূর্ব থেকেই পাত্রের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে অবগত থাকায় নতুন দাম্পত্য জীবনের সাথে সহজে অভিযোজন ঘটাতে সক্ষম হয়।অতএব, পরিবারব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে শালী-বিবাহের ভূমিকা ও গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও