উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মুন্সীগঞ্জের ১০০ জন আলু চাষি একত্র হয়ে সম-অধিকারের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের থেকে নিজেদের রক্ষা করে পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। সৎ, উদ্যমী ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে এ উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই এর সদস্যরা আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং পাশাপাশি সামাজিকভাবেও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- ক)(1)
শ্রমের দক্ষতা কী?
- খ)(2)
“ভূমির উৎপাদন ব্যয় নেই” ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সংগঠন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শ্রমিকের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ দক্ষতার সাথে বা গুণগত মান বজায় রেখে অধিক উৎপাদন করার ক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমি প্রকৃতির এক অকৃত্রিম ও বিনামূল্যে প্রাপ্ত দান, মানুষের তৈরি কোনো উপাদান নয়। মানুষ ভূমি তৈরি করতে পারে না বলে এর উৎপাদনে কোনো অর্থ বা ব্যয় নির্বাহ করতে হয় না। অর্থাৎ, আদি ও অকৃত্রিম প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ভূমির কোনো আদি উৎপাদন ব্যয় বা সৃষ্টি ব্যয় নেই। তবে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি বা সংস্কারের জন্য উন্নয়নমূলক ব্যয় হলেও সামগ্রিকভাবে ভূমির কোনো মৌলিক উৎপাদন খরচ নেই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি একটি সমবায় সংগঠন (কৃষক সমবায় সমিতি)।
সমমনা ও সমশ্রেণির ব্যক্তিবর্গ নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে সম-অধিকারের ভিত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সংগঠন বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জের ১০০ জন আলু চাষি সম-অধিকারের ভিত্তিতে একত্র হয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বা শোষণ থেকে নিজেদের রক্ষা করে উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। সমবায় সমিতির মূল নীতি ও বৈশিষ্ট্যের সাথে এটি পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় এটি একটি সমবায় সংগঠন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্দীপকে উল্লিখিত সমবায় সংগঠনটির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
সমবায় সমিতি সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করে তাদের আর্থিক মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করে। এককভাবে দরিদ্র চাষিরা যেখানে বড় ব্যবসায়ী বা ফড়িয়া-মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, সেখানে সমবায়ের শক্তিতে একত্রিত হয়ে তারা মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের শোষণ বন্ধ করতে পারে এবং পণ্যের সঠিক বাজারমূল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকে মুন্সীগঞ্জের আলু চাষিরা একত্রিত হয়ে সমবায়ের মাধ্যমে সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করায় মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের এড়িয়ে আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পেরেছেন। সৎ, উদ্যমী ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণে তাদের এই উদ্যোগ সফল হয়েছে, যার ফলে সদস্যরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি তারা সমাজে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।
অতএব, কৃষক বা ক্ষুদ্র উৎপাদকদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি, আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় সৃষ্টি এবং শোষণমুক্তির মাধ্যমে উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির মতো সমবায় প্রতিষ্ঠান দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও