সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

স্লোগান-১: ছেলে হোক মেয়ে হোক দু'টি সন্তানই যথেস্ট।
স্লোগান-২; আঠারোর আগে বিয়ে নয়, বিশের আগে সন্তান নয়।

  1. ক)

    জেন্ডার বৈষম্য কী?

    (1)
  2. খ)

    নিরক্ষরতা পরিবেশ দূষণের কারণ- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    স্লোগান-১ কোন সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্লোগান-২-এর সমস্যা সমাধানে তোমার সুচিন্তিত মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত নারী ও পুরুষের সামাজিক ভূমিকা, মর্যাদা, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বিরাজমান অসমতা ও পার্থক্যকে জেন্ডার বৈষম্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিরক্ষর মানুষ পরিবেশের ভারসাম্য এবং দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অসচেতন থাকে বলে নিরক্ষরতা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে। পরিবেশের উপাদানগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয় এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, বন উজাড় করা বা ক্ষতিকর কীটনাশকের অপব্যবহারের ফলে পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটে, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর অনেকেই সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। এই অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয় এবং দূষণ বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্লোগান-১ ("ছেলে হোক মেয়ে হোক দু'টি সন্তানই যথেষ্ট") বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা জনসংখ্যা বিস্ফোরণজনিত সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করছে।

    অতিরিক্ত জনসংখ্যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় ও সামাজিক সমস্যা। এ দেশে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ঘাটতি, বেকারত্ব, বাসস্থান সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং দারিদ্র্যের মতো বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়।

    পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই সরকার 'ছেলে হোক মেয়ে হোক দু'টি সন্তানই যথেষ্ট' স্লোগানটি প্রচার করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট পরিবার গঠনের মানসিকতা তৈরি করা এবং পুত্রসন্তানের আশায় বারবার সন্তান জন্মদানের প্রবণতা রোধ করে জনসংখ্যাকে পরিকল্পিত ও সীমিত রাখা। তাই উদ্দীপকের প্রথম স্লোগানটি জনসংখ্যা সমস্যা এবং তা নিয়ন্ত্রণের বার্তাকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্লোগান-২ ("আঠারোর আগে বিয়ে নয়, বিশের আগে সন্তান নয়") মূলত বাল্যবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মাতৃত্বের সমস্যাকে নির্দেশ করছে। এ সমস্যা সমাধানে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:

    ১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কাজি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আইন অমান্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
    ২. নারী শিক্ষার বিস্তার: মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং উপবৃত্তি কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে, যাতে মেয়েরা শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ সময় যুক্ত থাকে।
    ৩. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: উঠান বৈঠক, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে সন্তান ধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান: মেয়েদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে, যেন পরিবার তাদের বোঝা মনে না করে।
    ৫. জন্মনিবন্ধন ও নজরদারি জোরদার: বিয়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদের সঠিক যাচাই বাধ্যতামূলক এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

    পরিশেষে, রাষ্ট্রীয় কঠোর ব্যবস্থা ও সামগ্রিক সামাজিক আন্দোলনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন