অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রিমা ও শিমা নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টস-এ চাকরিরত ছিল। 'কোভিড-১৯ মহামারির কারণে তাদের চাকরি চলে যায় এবং গ্রামে ফিরে আসে। তারা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পরামর্শে স্থানীয় বাজারে 'সেলাইঘর' নামে একটি টেইলারিং-এর দোকান দেন। প্রথম মাসে তাদের নিট মুনাফা হয় বিশ হাজার টাকা।
- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?
- খ)(2)
স্থূল জন্মহার কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রিমা ও শিমা-এর উদ্যোগটির প্রকৃতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে 'সেলাইঘর'-এর যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের বা অঞ্চলের প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে যত জন লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে যত জন জীবন্ত শিশু জন্মগ্রহণ করে, তার অনুপাতকে স্থূল জন্মহার (CBR) বলে।
স্থূল জন্মহার পরিমাপের সূত্রটি হলো:
এখানে,
= স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate)
= নির্দিষ্ট বছরে মোট জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা
= উক্ত বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রিমা ও শিমার 'সেলাইঘর' উদ্যোগটির প্রকৃতি হলো 'আত্মকর্মসংস্থানমূলক অতিক্ষুদ্র বা ক্ষুদ্র সেবা উদ্যোগ'।
নিজস্ব দক্ষতা, স্বল্প মূলধন, সীমিত ঝুঁকি ও শ্রম কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মসংস্থান নিজে তৈরি করার প্রক্রিয়াকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। এটি কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতনের বিনিময়ে চাকরির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রিমা ও শিমা করোনা মহামারির কারণে পোশাক কারখানার চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। বেকার হয়ে হতাশ না হয়ে তারা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পরামর্শে নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বাজারে 'সেলাইঘর' নামে একটি টেইলারিং দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই নিজেদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং প্রথম মাসেই বিশ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন করেছেন। সুতরাং, তাঁদের এই উদ্যোগটি একটি সফল আত্মকর্মসংস্থান ও সেবাধর্মী ক্ষুদ্র ব্যবসা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রিমা ও শিমার প্রতিষ্ঠিত 'সেলাইঘর' উদ্যোগটি অত্যন্ত যুগোপযোগী, যথার্থ ও ইতিবাচক।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশ, যেখানে বেকারত্ব দূরীকরণে আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান অপ্রতুল। কোভিড-১৯ বা যেকোনো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় তৈরি পোশাক খাতের মতো বৃহৎ শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ অবস্থায় শহরমুখী অভিবাসনের বিপরীতে গ্রামে ফিরে আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত টেকসই সমাধান হিসেবে গণ্য হয়।
রিমা ও শিমার 'সেলাইঘর' প্রতিষ্ঠার যথার্থতা নিম্নলিখিত দিকগুলো থেকে স্পষ্ট:
১. স্বাবলম্বিতা ও বেকারত্ব দূরীকরণ: চাকরি হারানোর পর তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রথম মাসেই বিশ হাজার টাকা নিট মুনাফা করেছেন, যা পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দেয়।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নারীদের স্ব-উদ্যোক্তা হওয়া সমাজে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
৩. স্থানীয় সেবার চাহিদা পূরণ: স্থানীয় বাজারের ক্রেতারা সুলভ মূল্যে টেইলারিং সেবা পাচ্ছেন, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪. প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সদ্ব্যবহার: গার্মেন্টসে অর্জিত তাদের আগের সেলাই কাজের দক্ষতাকে নতুনভাবে কাজে লাগানো গেছে।পরিশেষে বলা যায়, চাকরি হারানোর পর গ্রামে ফিরে ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সুতরাং, সার্বিক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের 'সেলাইঘর' উদ্যোগটি শতভাগ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও