পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

'F' রাষ্ট্রটি 'Q' ও 'R' প্রদেশ নিয়ে গঠিত। 'F' রাষ্ট্রের জনসংখ্যা ছিল ৫ কোটি। 'Q' প্রদেশের ৩ কোটি মানুষ একটি মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতো। 'R' প্রদেশের খুব কম মানুষ অন্য মাধ্যমে মনেরভাব প্রকাশ করতো। কিন্তু 'R' প্রদেশের কম মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমটিই রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ছিল। অন্যদিকে 'F' রাষ্ট্রে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি জাতীয় নির্বাচন হয়। নির্বাচনে 'Q' প্রদেশের একটি জনপ্রিয় দল জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারে না।

  1. ক)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন ৬ দফাকে 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষ অংশে তোমার পাঠ্যবই এর কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম ঘটনা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনো অনুপ্রেরণা যোগায় কি? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো এমন একটি মতবাদ, যাতে বলা হয় ধর্মের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাদা জাতি, তাই তাদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজন।

  2. খ)

    ছয় দফায় বাঙালির স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দাবি ছিল। এতে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্তির পথ নির্দেশ করা হয়েছিল।

    এ দাবি বাঙালিকে সংগঠিত করে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ তৈরি করে। তাই ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষ অংশে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানার ঘটনার মিল পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে 'F' রাষ্ট্রে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হয়। 'Q' প্রদেশের জনপ্রিয় দল জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারে না। একইভাবে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানা টালবাহানা করে এবং জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে। তাই উদ্দীপকের শেষ অংশের সাথে এ ঘটনার মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম ঘটনা অর্থাৎ 'R' প্রদেশের কম মানুষের ভাষা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়া ও 'Q' প্রদেশের ৩ কোটি মানুষের ভাষা অবহেলিত হওয়া ভাষা আন্দোলনের সাথে মিলে যায়। এ ঘটনা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে অবশ্যই অনুপ্রেরণা যোগায়।

    ১. জাতীয় চেতনার জাগরণ: ভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বাঙালি তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা সম্পর্কে সচেতন হয়।
    ২. প্রতিবাদী মনোভাব: শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে জয়ী হওয়ায় বাঙালি সাহস ও আত্মবিশ্বাস পায়।
    ৩. পরবর্তী আন্দোলনের প্রেরণা: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এ চেতনা থেকেই এসেছে।
    ৪. ত্যাগের দৃষ্টান্ত: ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে।

    সুতরাং, ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন