ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব লোহানী মির্জা সাউদ বাংলা প্রাইভেট লি. এর ম্যানেজার। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে তিনি দিন-রাত কাজ নিয়ে যথাসাধ্য ব্যস্ত থাকেন। প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে জনাব লোহানী কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব দেন। অপরদিকে জনাব লালখান অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভালো-মন্দ বিবেচনার চাইতে তাদের থেকে কাজ আদায়কে অধিক গুরুত্ব দেন।

  1. ক)

    নেতৃত্ব কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব লোহানী মির্জার প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের নেতৃত্ব বিদ্যমান? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে জনাব 'লালখান' দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে কোন ধরনের নেতৃত্ব দিয়েছেন? তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করার প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদা, নিয়ম-কানুন এবং কাঠামোগত অধিকার থেকে যে নেতৃত্বের সৃষ্টি হয়, তাকে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বলে। এ ধরনের নেতৃত্বে নেতা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের মাধ্যমে অধস্তনদের নির্দেশ প্রদান করেন এবং কর্মীরা নিয়মমাফিক সেই নির্দেশ পালন করতে বাধ্য থাকেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব লোহানী মির্জার প্রতিষ্ঠানে 'গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব' বিদ্যমান।

    যে ধরনের নেতৃত্বে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধস্তন বা কর্মীদের সাথে পরামর্শ করেন, তাদের মতামতের মূল্যায়ন করেন এবং দলীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব লোহানী মির্জা সাউদ বাংলা প্রাইভেট লি.-এর ম্যানেজার হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে অত্যন্ত পরিশ্রম করেন এবং প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব দেন। কর্মীদের মতামতের মূল্যায়ন করা এবং তাদের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করাই গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মূল ভিত্তি। সুতরাং, জনাব লোহানীর প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে জনাব লালখান 'কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্ব' (Task-oriented leadership) দিয়েছেন।

    যে নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের মানবিক দিক বা সুযোগ-সুবিধার চেয়ে কাজ সম্পন্ন করা ও উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন, তাকে কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব লালখান প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভালো-মন্দ বিবেচনার চেয়ে তাদের থেকে কাজ আদায়কে অধিক গুরুত্ব দেন, যা কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রতিফলন।

    কার্যকারিতা মূল্যায়ন:
    কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্বের কিছু স্বল্পমেয়াদী সুবিধা রয়েছে। নেতা কঠোর তদারকি করায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজের গতি বাড়ে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সহজ হয়। জরুরি অবস্থায় বা অদক্ষ ও ফাঁকিবাজ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে এই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। কর্মীদের ব্যক্তিগত কল্যাণ, আবেগ ও সন্তুষ্টিকে অবহেলা করায় তাদের মধ্যে কাজের প্রতি অনীহা ও হতাশা জন্ম নেয়। এতে প্রতিষ্ঠানে শ্রম অসন্তোষ, কর্মী ঘূর্ণায়মানতা ও অনুপস্থিতির হার বেড়ে যায়। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের সন্তুষ্টি ছাড়া সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। অতএব, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সার্বিক ও দীর্ঘমেয়াদী বিবেচনায় জনাব লালখানের কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্ব খুব বেশি কার্যকর নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন