ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
ঢাকার মিরপুর এলাকায় 'মেঘনা সমবায় সমিতি' ও 'আশার আলো' নামে দুটি সমবায় সমিতি আছে। মেঘনা সমবায় সমিতি এর সদস্যরা তাদের তৈরি করা খেলনাসামগ্রী একত্র করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে। এতে অত্র এলাকার মানুষের উপার্জন বেড়েছে। অপরদিকে আশার আলো সমবায় সমিতির সদস্যরা তাদের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সরাসরি কোম্পানি থেকে কিনে এনে নিজেরা ভাগ করে নেয়।
- ক)(1)
ট্রেডমার্ক কী?
- খ)(2)
আচরণে অনুমিত অংশীদার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'আশার আলো' কোন ধরনের সমবায় সমিতি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মেঘনা সমবায় সমিতি- এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তার পণ্য বা সেবাকে অন্যের পণ্য বা সেবা থেকে পৃথক করার জন্য যেসব প্রতীক, নাম, চিহ্ন বা নকশা আইনগতভাবে নিবন্ধন করিয়ে ব্যবহার করে, তাকে ট্রেডমার্ক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ বা কোনো অংশীদার না হয়েও যদি কেউ নিজের আচার-আচরণ বা কথাবার্তার মাধ্যমে নিজেকে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ব্যবসায়ের অন্যান্য অংশীদাররা তাতে কোনো আপত্তি না করে নীরব থাকে, তবে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে।
এ রূপ ব্যক্তি তৃতীয় পক্ষের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতির জন্য দায়ী থাকে, কারণ তৃতীয় পক্ষ তার আচরণ দেখে প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা সুবিধা দিয়েছে বলে গণ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'আশার আলো' সমবায় সমিতিটি একটি ভোক্তা সমবায় সমিতি (Consumers' Cooperative Society)।
সীমিত আয়ের ভোক্তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ ও অতিরিক্ত মুনাফা এড়িয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সরাসরি উৎপাদক বা পাইকারের কাছ থেকে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের মধ্যে যে সমবায় সমিতি গড়ে তোলে, তাকে ভোক্তা সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে 'আশার আলো' সমিতির সদস্যরা মধ্যস্থতাকারীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কোম্পানি বা উৎপাদকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য কিনে এনে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়। এটি সদস্যদের সুলভ ও ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করে। অতএব, এর লক্ষ্য ও কার্যক্রমের দিক বিবেচনায় এটি একটি ভোক্তা সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে 'মেঘনা সমবায় সমিতি' অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সমবায় হলো এমন একটি সংগঠন যেখানে স্বল্পবিত্তের মানুষেরা নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হয়। উৎপাদক সমবায় সমিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উৎপাদকরা তাদের পণ্য যথাযথ মূল্যে বাজারজাত করতে পারে, যার ফলে তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পায় এবং নিয়মিত আয়ের পথ সুগম হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিরপুর এলাকার 'মেঘনা সমবায় সমিতি'র সদস্যরা স্থানীয়ভাবে তৈরি করা খেলনাসামগ্রী একত্রিত করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করে। অতীতে হয়তো তারা এককভাবে উপযুক্ত বাজার পেত না কিংবা ফড়িয়াদের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতো। সমিতি গঠন করে একত্রিতভাবে বিক্রয়ের ফলে পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের উপার্জন বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপার্জন বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং এলাকার দারিদ্র্য দূরীকরণে গতি আসছে। ফলে স্থানীয় হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প উৎসাহিত হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, খেলনা প্রস্তুতকারকদের ক্ষমতায়ন ও তাদের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মেঘনা সমবায় সমিতি মিরপুর এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও