অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. 'X' কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলো। বেশ কয়েক বছর পর সে দেশে ফিরে আসে। সে দেখে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। সেচ ছাড়া কোনো ফসল হয় না। সময়ে, অসময়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয়। সে মনে করে কৃষক সচেতন হলে, জৈব সার ব্যবহার করলে ও রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করলে হয়তো এসব সমস্যা হ্রাস পেতে পারে ।

  1. ক)

    কৃষি খামার কী?

    (1)
  2. খ)

    “বাংলাদেশের কৃষি মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষিতে পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পরিবেশ দূষণের সাথে অভিযোজনের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা ও ভৌগোলিক সীমারেখার অধীনে কৃষি ফসল ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ইউনিটকে কৃষি খামার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল, কারণ এ দেশের প্রধান ফসলগুলো আবাদে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের প্রধান উৎস হলো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু।

    বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা ধান, পাট ইত্যাদি ফসল চাষে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মৌসুমি বায়ু যথাসময়ে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রবাহিত হলে কৃষিতে বাম্পার ফলন হয়; পক্ষান্তরে, মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত প্রবাহের কারণে অনাবৃষ্টি বা খরা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা দেখা দেয়, যা কৃষিকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই বাংলাদেশের কৃষিকে প্রকৃতির ওপর বা মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল জুয়াখেলা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষিতে পরিবেশ দূষণের বহুবিধ ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সময়মতো বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। কৃষিতে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ও সেচনির্ভরতা বৃদ্ধি: সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।
    ২. প্রাকৃতিক দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা: পরিবেশ দূষণের কারণে অসময়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মাঠের ফসল ধ্বংস করে দেয় এবং ফসলি জমি লবণাক্ত করে ফেলে।
    ৩. মাটির উর্বরতা হ্রাস: অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি দূষিত হয়, মাটির উপকারী অণুজীব ধ্বংস পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।

    অতএব, উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী পরিবেশ দূষণ সরাসরি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করছে এবং কৃষকদের চরম আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের সাথে কৃষির অভিযোজনের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। উদ্দীপক ও প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিমোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:

    ১. পরিবেশবান্ধব কৃষি উপকরণ ব্যবহার: উদ্দীপকে মি. 'X' রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কম্পোস্ট, গোবর সার এবং সবুজ সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও আর্দ্রতা রক্ষা করা সম্ভব।
    ২. প্রতিকূলতাসহিষ্ণু জাতের উদ্ভাবন ও চাষ: খরা, বন্যা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু উন্নত জাতের ফসলের উদ্ভাবন এবং কৃষকদের মাঝে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
    ৩. পানি সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা: বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে ড্রিপ ইরিগেশন বা এডব্লিউডি (AWD-পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো) পদ্ধতির মতো আধুনিক সেচ প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে হবে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রেখে (Rainwater harvesting) সেচকাজে ব্যবহার করতে হবে।
    ৪. কৃষক সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ, সঠিক সময়ে উপযুক্ত ফসল নির্বাচন এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে আইপিএম (IPM) বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে হবে।

    পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত অভিযোজনমূলক কৌশলগুলো গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণজনিত ঝুঁকি কমিয়ে টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন