‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

আব্বাস দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পড়ে ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জানতে পারে। ওই দল প্রতিষ্ঠার পটভূমিও সে জানতে পারে। আর সে আরো জানতে পারে প্রতিষ্ঠালগ্নে দলটির উদ্যোক্তাগণ ঘোষণা করেন যে,ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখাই হবে দলটির মূল ভিত্তি।

  1. ক)

    বাংলার প্রথম গর্ভনর কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিজাতিতত্ত্ব কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আব্বাস যে দলের কথা জানতে পেরেছে সেটি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখাই হবে দলটির মূলভিত্তি"- দলটির এ ঘোষণা কীভাবে বাস্তবরুপ লাভ করেছিল তা বর্ণনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন লর্ড রবার্ট ক্লাইভ (Lord Robert Clive)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতিতত্ত্ব হলো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রচারিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যেখানে বলা হয় যে ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু এবং মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি এবং তাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও ইতিহাস সম্পূর্ণ পৃথক।

    ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্বটি সামনে এনে দাবি করেন যে ভারতীয় মুসলমানরা কেবল একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়, বরং তারা একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বতন্ত্র আবাসভূমি নিশ্চিত করার জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। এই মতবাদের ওপর ভিত্তি করেই মূলত ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আব্বাস যে দলটির কথা জানতে পেরেছে, তা হলো ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রথম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' (Indian National Congress)।

    কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট:
    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের অধীনে গ্রহণ করে। লর্ড লিটনের দমনমূলক নীতি (যেমন- দেশীয় সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন ইত্যাদি) ভারতীয় জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরবর্তীকালে ইলবার্ট বিল বিতর্কের পর ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপলব্ধি করে যে অধিকার আদায়ে একটি সংগঠিত সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।

    এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ অবসরপ্রাপ্ত সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ভারতীয় অসন্তোষকে নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালনা করতে এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে শিক্ষিত ভারতীয়দের দাবি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় দল গঠনের উদ্যোগ নেন। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ডাফরিনের মৌন সমর্থনে ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে বোম্বাইয়ে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখাই হবে দলটির মূলভিত্তি"—ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে (১৮৮৫–১৯০৫) এই ঘোষণা ও নীতি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হয়েছিল, যা 'নরমপন্থী' (Moderate) পর্ব নামে পরিচিত।

    ১. আবেদন-নিবেদনের রাজনীতি: প্রাথমিক পর্যায়ের কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ (যেমন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, দাদাভাই নওরোজি প্রমুখ) ব্রিটিশ সরকারের ন্যায়বিচার ও মহানুভবতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতেন। তারা মনে করতেন ব্রিটিশ শাসন ভারতের জন্য কল্যাণকর।

    ২. নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন: তারা প্রত্যক্ষ সংঘাত বা বিদ্রোহের পথ পরিহার করে স্মৃতিপত্র প্রদান, প্রার্থনাপত্র পেশ, প্রতিনিধি দল প্রেরণ এবং আইনসভায় বিতর্কের মাধ্যমে সীমিত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলতেন।

    ৩. রাজভক্তির প্রকাশ: কংগ্রেসের প্রতিটি বার্ষিক অধিবেশন ব্রিটিশ রানির প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে শুরু এবং শেষ হতো।

    এভাবে দলটির প্রতিষ্ঠালগ্নে গৃহীত নীতি ও ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আনুগত্য দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ণ থেকে বাস্তবে রূপ লাভ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন