অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. মতিন তার জমিতে বছরে দুবার ধান চাষ করে থাকেন। কিন্তু গত বছর ধান উৎপাদন কম হওয়ায় লোকসানের শিকার হন। এমতাবস্থায় মি. মতিন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করেন। কৃষি কর্মকর্তা তাকে একই জমিতে বার বার একই ফসল চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসল উৎপাদনের পরামর্শ দেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে মতিন সাহেব, এ বছর পর্যায়ক্রমে ধান, গম ও পাট উৎপাদন করে বেশ লাভবান হয়েছেন।
- ক)(1)
মাশরুম কী?
- খ)(2)
কৃষিতে ভর্তুকির প্রভাব কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে একই জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষের এ কৌশল কোন ধরনের উৎপাদন পদ্ধতি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
এ দেশের কৃষি উন্নয়নে মতিন সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাশরুম হলো এক ধরনের ভক্ষণযোগ্য, পুষ্টিকর ও মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ বা ফ্রুটবডি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিতে ভর্তুকির ইতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী; এটি উৎপাদন খরচ কমিয়ে সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সরকার সার, বীজ, বিদ্যুৎ ও সেচকাজে ভর্তুকি বা আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। ফলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরাও আধুনিক উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহিত হয় এবং সামগ্রিকভাবে দেশে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে একই জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষের এ কৌশল কৃষির 'শস্যাবর্তন' (Crop Rotation) উৎপাদন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।
কোনো নির্দিষ্ট জমিতে মাটির উর্বরতা অক্ষুণ্ন রেখে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে পর্যায়ক্রমে ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদন করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে শস্যাবর্তন বলা হয়। একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ করলে মাটিতে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মতিন পূর্বে একই জমিতে বছরে দুবার কেবল ধান চাষ করায় ফসল উৎপাদন কমে লোকসানের শিকার হন। পরবর্তীতে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি একই জমিতে বারবার ধান চাষ না করে পর্যায়ক্রমে ধান, গম ও পাট উৎপাদন করেন। এই পর্যায়ক্রমিক উৎপাদনই অর্থনীতি ও কৃষিতত্ত্বের শস্যাবর্তন পদ্ধতি, যা মাটির ভারসাম্য বজায় রেখে ফলন বৃদ্ধি করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান ও স্বল্প আবাদি জমির দেশে মি. মতিন কর্তৃক গৃহীত শস্যাবর্তনের পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।
নিম্নে এ পদক্ষেপের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সংরক্ষণ: একই ফসল বারবার ফলালে মাটির নির্দিষ্ট খনিজ নিঃশেষিত হয়। শস্যাবর্তন পদ্ধতিতে ভিন্ন ভিন্ন ফসল (যেমন- ধান, গম, পাট) চাষ করায় মাটির পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
২. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: এ কৌশলের ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা অটুট থাকে, যা মতিন সাহেবের মতো কৃষকদের অধিক ফলন পেতে সাহায্য করে। এটি দেশের সামগ্রিক খাদ্য ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
৩. ঝুঁকি হ্রাস: কৃষি আবহাওয়ানির্ভর হওয়ায় কেবল একটি ফসলের ওপর নির্ভর করলে ফলন বিপর্যয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। একাধিক ফসল চাষ কৃষকের এই অর্থনৈতিক ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
৪. রোগবালাই ও কীট-পতঙ্গ দমন: পর্যায়ক্রমিক ফসল পরিবর্তনের কারণে ফসলের নির্দিষ্ট ক্ষতিকর পোকা ও রোগজীবাণুর বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়।
অতএব, সীমিত জমি থেকে টেকসই উপায়ে অধিক ফসল উৎপাদন ও কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মতিন সাহেবের গৃহীত শস্যাবর্তন পদক্ষেপটি দেশের সার্বিক কৃষি উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও