জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়। তিনি মটরশুটি গাছ নিয়ে গবেষণার সময় F₂ জনুতে লম্বা ও খাটো গাছের অনুপাত ৩:১ পান। কিন্তু পরবর্তীতে এর অনেক ব্যতিক্রম বের হয়। অসম্পূর্ণ প্রকটতা এবং সমপ্রকটতা এরূপ দুটি ব্যতিক্রম, যেখানে আনুপাতিক হার সমান।
- ক)(1)
অ্যালিল কী?
- খ)(2)
হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটি মেন্ডেলের কোন সূত্রকে সমর্থন করে ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যতিক্রম দুটিতে প্রকট জিনের প্রকাশে ভিন্নতা রয়েছে- যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থিত নির্দিষ্ট জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে একে অপরের অ্যালিল (Allele) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এপিস্ট্যাসিস প্রক্রিয়ায় একটি নন-অ্যালিলিক জিন যখন অন্য একটি জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয়, তখন যে জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত বা অবদমিত হয়, তাকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন (Hypostatic gene) বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩:১ অনুপাতটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা 'পৃথকীকরণ সূত্র' (Law of Segregation)-কে সমর্থন করে।
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রানুযায়ী: সংকর জীবে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলো (ফ্যাক্টর বা জিন) মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামেট সৃষ্টির সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করে।
ব্যাখ্যা:
ধরি, মটরশুঁটি গাছের বিশুদ্ধ লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন = T এবং বিশুদ্ধ খাটো বৈশিষ্ট্যের জিন = t।
বিশুদ্ধ লম্বা (TT) এবং বিশুদ্ধ খাটো (tt) উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে (F₁) সকল উদ্ভিদ সংকর লম্বা (Tt) হয়।F₁ জনুর উদ্ভিদের মধ্যে স্ব-পরাগায়ন ঘটালে (Tt × Tt):
গ্যামেট সৃষ্টির সময় T এবং t অ্যালিল পৃথক হয়ে যায়। এর ফলে F₂ জনুতে সম্ভাব্য জিনোটাইপগুলো হয়— TT, Tt, Tt এবং tt।
এদের মধ্যে জিনোটাইপিক অনুপাত ১টি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) : ২টি সংকর লম্বা (Tt) : ১টি বিশুদ্ধ খাটো (tt) = ১:২:১।
যেহেতু T অ্যালিলটি t-এর ওপর প্রকট, তাই ফিনোটাইপিকভাবে TT ও Tt উভয়ই লম্বা হয়। ফলে F₂ জনুতে লম্বা ও খাটো উদ্ভিদের ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায় ৩:১। সুতরাং, এটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের প্রমাণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম দুটি হলো অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete dominance) এবং সমপ্রকটতা (Codominance)। এ দুটি ক্ষেত্রে F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত সমান (১:২:১) হলেও প্রকট জিনের প্রকাশ প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে জিনের প্রকাশ:
যখন দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে ক্রস ঘটানো হয় এবং একজোড়া অ্যালিলের কোনোটিই অপরটির ওপর সম্পূর্ণ প্রকট হতে পারে না, তখন F₁ জনুতে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণে একটি সম্পূর্ণ নতুন বা মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে।
উদাহরণস্বরূপ: সন্ধামালতী উদ্ভিদের লাল ফুল (RR) ও সাদা ফুলের (rr) সংকরায়নে F₁ জনুতে লাল বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না পেয়ে মধ্যবর্তী 'গোলাপি' (Rr) ফুল উৎপন্ন হয়। F₂ জনুতে এদের ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ১টি লাল : ২টি গোলাপি : ১টি সাদা = ১:২:১। এখানে কোনো জিনই পুরোপুরি প্রকট হতে পারে না।২. সমপ্রকটতার ক্ষেত্রে জিনের প্রকাশ:
বিষমসংকর অবস্থায় যখন দুটি ভিন্ন অ্যালিলের উভয়ই সমভাবে এবং যুগপৎ তাদের পূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তখন তাকে সমপ্রকটতা বলে।
উদাহরণস্বরূপ: কালো বর্ণের আন্দালুসিয়ান মোরগ (BB) ও সাদা বর্ণের মুরগির (WW) মধ্যে ক্রস ঘটালে F₁ জনুতে কোনো মধ্যবর্তী রং তৈরি না হয়ে কালো ও সাদা উভয় বৈশিষ্ট্যই পাশাপাশি প্রকাশিত হয় (চিত্রি বা ব্লু আন্দালুসিয়ান, BW)। F₂ জনুতে এদের ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ১টি কালো : ২টি চিত্রি : ১টি সাদা = ১:২:১। এখানে উভয় অ্যালিলই সমানভাবে স্বীয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।অতএব, অসম্পূর্ণ প্রকটতায় কোনো অ্যালিলই নিজের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে না (মধ্যবর্তী প্রকাশ ঘটে), কিন্তু সমপ্রকটতায় উভয় অ্যালিলই সমান ও সুস্পষ্টভাবে একসাথে প্রকাশিত হয়। সুতরাং, ব্যতিক্রম দুটিতে প্রকট জিনের প্রকাশে ভিন্নতা থাকার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও