জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
A: ইক্ষু ও ভুট্টাB : আম ও কাঁঠাল
- ক)(1)
লিমিটিং ফ্যাক্টর কী?
- খ)(2)
খনিজ লবণ পরিশোষণ সাধারণত সক্রিয় প্রক্রিয়ায় ঘটে কেন?
- গ)(3)
A এর উদ্ভিদসমূহ যে প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে রেখাচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক A এবং উদ্দীপক B এর উদ্ভিদসমূহের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে, যে প্রভাবকটির পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে এবং যা প্রক্রিয়ার হার নির্ধারণ করে, তাকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (Limiting Factor) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলরোমের কোষরসের খনিজ লবণের ঘনত্ব সাধারণত মাটির দ্রবণে বিদ্যমান লবণের ঘনত্বের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। ঘনত্বের এই বিপরীত বা নতিমাত্রার বিরুদ্ধে আয়ন শোষণ করতে কোষীয় বিপাকীয় শক্তির (ATP) প্রত্যক্ষ প্রয়োগ আবশ্যক হয়। নিষ্ক্রিয় পরিশোষণে শক্তির ব্যবহার ছাড়াই কেবল ব্যাপন নিয়মে কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে আয়ন প্রবেশ করতে পারে না। তাই উদ্ভিদদেহে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ পরিশোষণ সাধারণত সক্রিয় পরিশোষণ প্রক্রিয়াতেই ঘটে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' নির্দেশিত উদ্ভিদসমূহ (ইক্ষু ও ভুট্টা) হলো উদ্ভিদ। এরা চক্র বা হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণ করে খাদ্য তৈরি করে। নিচে এর একটি সার্বিক রেখাচিত্র উপস্থাপন করা হলো:
১. মেসোফিল কোষে:
বায়ুমণ্ডলীয় + ফসফোএনল পাইরুভিক এসিড (৩C)
--[এনজাইম: PEP কার্বক্সিলেজ]--> অক্সালোএসিটিক এসিড (৪C)
--[বিজারণ (NADPH ব্যয়)]--> ম্যালিক এসিড (বা অ্যাসপার্টিক এসিড) (৪C)২. প্লাজমোডেজমাটার মাধ্যমে ম্যালিক এসিড বান্ডল সিথ কোষে স্থানান্তর।
৩. বান্ডল সিথ কোষে:
ম্যালিক এসিড (৪C)
--[ডিকার্বক্সিলেশন]--> পাইরুভিক এসিড (৩C) +• মুক্ত বান্ডল সিথ কোষে রুববিসকো (RuBisCO) এনজাইমের উপস্থিতিতে রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালভিন চক্রে ( চক্র) প্রবেশ করে এবং শর্করা তৈরি করে।
• অবশিষ্ট পাইরুভিক এসিড (৩C) পুনরায় মেসোফিল কোষে ফিরে আসে এবং ATP ব্যবহারের মাধ্যমে ফসফোএনল পাইরুভিক এসিড (PEP) পুনরুৎপাদন করে চক্রটি অব্যাহত রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' নির্দেশিত উদ্ভিদসমূহ হলো উদ্ভিদ (ইক্ষু, ভুট্টা) এবং 'B' নির্দেশিত উদ্ভিদসমূহ হলো উদ্ভিদ (আম, কাঁঠাল)। এদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ার (যথাক্রমে ও চক্র) মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কার্বন বিজারণের গতিপথ: A-এর উদ্ভিদে খাদ্য তৈরিতে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র ( চক্র) এবং ক্যালভিন চক্র উভয়ই ব্যবহৃত হয়; কিন্তু B-এর উদ্ভিদে কেবল ক্যালভিন চক্র ( চক্র) ঘটে।
২. প্রথম স্থায়ী পদার্থ: A উদ্ভিদের চক্রে বায়বীয় গ্রহণের পর প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোএসিটিক এসিড গঠিত হয়। পক্ষান্তরে B উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-PGA)।
৩. গ্রাহক: A উদ্ভিদের প্রাথমিক গ্রাহক হলো ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোএনল পাইরুভিক এসিড (PEP); অন্যদিকে B উদ্ভিদে প্রাথমিক গ্রাহক ৫-কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)।
৪. এনজাইম: A উদ্ভিদে প্রাথমিক সংবন্ধনে 'PEP কার্বক্সিলেজ' এবং B উদ্ভিদে 'RuBisCO' এনজাইম ব্যবহৃত হয়।
৫. শারীরস্থানিক পার্থক্য: A উদ্ভিদের পাতায় ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বিদ্যমান এবং প্রক্রিয়াটি মেসোফিল কোষ ও বান্ডল সিথ কোষে বিভক্ত হয়ে ঘটে। B উদ্ভিদের পাতায় কোনো ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি থাকে না এবং খাদ্য তৈরি কেবল মেসোফিল কোষে সম্পন্ন হয়।
৬. আলোক-শ্বসন (Photorespiration): B উদ্ভিদে উচ্চ তাপ ও আলোতে আলোক-শ্বসন ঘটে যা সালোকসংশ্লেষণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়; কিন্তু A উদ্ভিদে আলোক-শ্বসন কার্যত অনুপস্থিত হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণের হার ও খাদ্য তৈরির দক্ষতা অনেক বেশি।
৭. প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও আলোর তীব্রতা: A উদ্ভিদসমূহ উচ্চ তাপমাত্রা (৩০°-৪৫° সে.) ও তীব্র আলোতে খাদ্য তৈরিতে অধিক কার্যকর, যেখানে B উদ্ভিদসমূহ মধ্যম তাপমাত্রায় (১০°-২৫° সে.) বেশি কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও