‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ • বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    'হস্তান্তরিত আইন প্রণয়ন' কোন বিভাগের কাজ?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    ছকে 'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের কোন বিভাগকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো ছকের 'C' চিহ্নিত বিভাগটি 'B' চিহ্নিত বিভাগ থেকে পৃথক করা উচিত? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'হস্তান্তরিত আইন প্রণয়ন' শাসন বিভাগ বা নির্বাহী বিভাগের কাজ। (আইন বিভাগ কর্তৃক অর্পিত বা হস্তান্তরিত ক্ষমতার ভিত্তিতে শাসন বিভাগ এই ধরনের অধস্তন আইন, বিধিমালা বা প্রবিধান প্রণয়ন করে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব কোনো বংশানুক্রমিক শাসকের হাতে থাকে না, তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।

    বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপতি জনগণের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তাছাড়া বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো বংশানুক্রমিক বা রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই। তাই বাংলাদেশকে গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বা প্রজাতন্ত্র বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে 'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের 'আইন বিভাগ'-কে নির্দেশ করে।

    সরকারের তিনটি মৌলিক অঙ্গ বা বিভাগের মধ্যে প্রধানতম একটি হলো আইন বিভাগ। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো দেশের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা, প্রচলিত আইনের সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিল করা। এছাড়া লিখিত সংবিধানের ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতাও আইনসভার ওপর ন্যস্ত থাকে।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, 'A' এর কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে 'আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধন'। এ কাজগুলো মূলত সরকারের আইনসভারই মূল দায়িত্ব। বাংলাদেশে আইন বিভাগ হিসেবে 'জাতীয় সংসদ' এই দায়িত্ব পালন করে থাকে। সুতরাং, কার্যাবলির ভিত্তিতে ছকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি ছকের 'C' চিহ্নিত বিভাগটি (বিচার বিভাগ) 'B' চিহ্নিত বিভাগ (শাসন বিভাগ) থেকে পৃথক করা একান্ত আবশ্যক।

    উদ্দীপকের ছকে 'B' নির্দেশ করছে আইন প্রয়োগকারী অঙ্গ অর্থাৎ 'শাসন বিভাগ' এবং 'C' নির্দেশ করছে সংবিধানের ব্যাখ্যা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণকারী অঙ্গ অর্থাৎ 'বিচার বিভাগ'।

    শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ:
    ১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা: বিচার বিভাগ যদি শাসন বিভাগের অধীনে থাকে, তবে বিচারকগণ স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন না। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।
    ২. নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: ছকের 'C' বিভাগের কাজ হলো নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করা। শাসন বিভাগ কর্তৃক কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে নাগরিক বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হন। বিচার বিভাগ পৃথক ও স্বাধীন না হলে শাসন বিভাগের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া অসম্ভব।
    ৩. আইনের শাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা: ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আলোকে সরকারের বিভাগগুলো একে অপরের থেকে পৃথক থাকা দরকার, যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত কর্তৃত্ব চালাতে না পারে। বিচার বিভাগ পৃথক থাকলে তা শাসন বিভাগের স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে পারে।
    ৪. সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা: সংবিধানের অভিভাবক ও সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানকারী হিসেবে বিচার বিভাগ কাজ করে। শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত না হলে সংবিধানের পবিত্রতা ও সর্বোচ্চ অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশে সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষিত হয়েছে এবং ঐতিহাসিক 'মাসদার হোসেন মামলা'র রায়ের প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়।

    অতএব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক রাখা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন