সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মাহতাব একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। ১৯৭২ সালে। প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি ত্রাণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও বর্তমানে দরিদ্র। নারী-পুরুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসা, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি পালন, কুটির ও হস্তশিল্প ইত্যাদি আয়বৃদ্ধিমূলক প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দেয়। মাহতাব এসব উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
- ক)(1)
ASA-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
শিক্ষার সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সংস্থার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সংস্থাটির কার্যক্রমসমূহ সামাজিক উন্নয়নে কি কোনো ভূমিকা রাখবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ASA-এর পূর্ণরূপ হলো Association for Social Advancement।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষার সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নের অত্যন্ত নিবিড় ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। কোনো দেশের জনসংখ্যা তখনই মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয় যখন তারা উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে। শিক্ষা মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। ফলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী জাতীয় উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই বলা যায়, শিক্ষাই হলো মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'ব্র্যাক' (BRAC)-এর কথা বলা হয়েছে।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে 'বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি' (বর্তমানে ব্র্যাক) প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি ত্রাণভিত্তিক কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদী বহুমুখী টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থাটি ১৯৭২ সালে ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে দরিদ্র নারী-পুরুষকে ক্ষুদ্রঋণ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, কুটির ও হস্তশিল্পে সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি মাহতাবের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ব্র্যাকের বিখ্যাত সামাজিক উদ্যোগ 'আড়ং' (Aarong)-এর বিপণন ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। সুতরাং, উদ্দীপকে ব্র্যাকের কার্যক্রমের কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের সংস্থাটির (ব্র্যাক) কার্যক্রমসমূহ বাংলাদেশের সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একটি দেশের সার্বিক কল্যাণ ও ইতিবাচক রূপান্তরই হলো সামাজিক উন্নয়ন। ব্র্যাকের মতো এনজিওগুলোর গৃহীত কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত।
প্রথমত, গ্রামীণ দরিদ্র নারী-পুরুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পশু-পাখি পালন, হস্তশিল্প ইত্যাদি আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ডে ঋণ প্রদান করার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে তারা পরিবারের মৌলিক চাহিদা (যেমন- পুষ্টিকর খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা) মেটাতে সক্ষম হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ নারীদের এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে। পরিবার ও সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা লিঙ্গসমতা অর্জনে সহায়ক।
তৃতীয়ত, কুটির ও হস্তশিল্পের পণ্য সামগ্রী মাহতাবের মতো কর্মীদের মাধ্যমে বাজারজাতকরণ করায় গ্রামীণ উৎপাদনকারীরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও বাল্যবিয়ে রোধেও এ ধরনের সংস্থাগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ব্র্যাকের এসব বহুমুখী ও টেকসই কার্যক্রম সামাজিক গতিশীলতা ও মানবকল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও