‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:

  1. ক)

    শ্রমের দক্ষতা কী?

    (1)
  2. খ)

    'আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরির মাধ্যমে শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শ্রমবাজারে কীভাবে ভারসাম্য মজুরি নির্ধারিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    50 ও 150 টাকা মজুরিতে, শ্রমবাজারে কীরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিকের কাজ করার শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য বা কর্মক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্রমিক তার কাজের বিনিময়ে অর্থ হিসেবে যে পারিশ্রমিক পায় তাকে আর্থিক মজুরি বলে। কিন্তু প্রকৃত মজুরি হলো আর্থিক মজুরির ক্রয়ক্ষমতা এবং এর পাশাপাশি প্রাপ্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার (যেমন- বাসস্থান, চিকিৎসা, যাতায়াত ইত্যাদি) সমষ্টি।

    কেবলমাত্র আর্থিক মজুরি বৃদ্ধি পেলেই শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান বাড়ে না। যেমন—দ্রব্যমূল্যের স্তর যদি আর্থিক মজুরির চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ে, তবে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তার প্রকৃত অবস্থা খারাপ হয়। শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার প্রকৃত মান কেবল প্রকৃত মজুরির মাধ্যমেই সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় বলে আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরির মাধ্যমেই শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শ্রমের চাহিদা ও শ্রমের জোগানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমবাজারে ভারসাম্য মজুরি নির্ধারিত হয়েছে।

    চিত্রে ভূমি অক্ষে শ্রমের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে মজুরি নির্দেশ করা হয়েছে। DLD_L হলো শ্রমের নিম্নগামী চাহিদা রেখা এবং SLS_L হলো শ্রমের ঊর্ধ্বগামী জোগান রেখা। চিত্রে দেখা যায়, EE বিন্দুতে শ্রমের চাহিদা রেখা (DLD_L) এবং শ্রমের জোগান রেখা (SLS_L) পরস্পরকে ছেদ করেছে। অর্থাৎ, EE বিন্দুতেই শ্রমের চাহিদা ও শ্রমের জোগান পরস্পর সমান (DL=SLD_L = S_L) হয়।

    এই ছেদবিন্দু EE-তে ভারসাম্য মজুরির পরিমাণ নির্ধারিত হয় ১০০ টাকা এবং ভারসাম্য শ্রমের পরিমাণ নির্ধারিত হয় ২০০ একক। সুতরাং, চাহিদা ও জোগানের সমতা বিন্দু EE-এর মাধ্যমেই বাজারে ১০০ টাকা ভারসাম্য মজুরি নির্ধারিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে ৫০ টাকা এবং ১৫০ টাকা মজুরিতে শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ৫০ টাকা মজুরিতে:
    মজুরি যখন কমে ৫০ টাকা হয়, তখন চিত্রে দেখা যায় শ্রমের জোগান DD বিন্দুতে ১০০ একক, কিন্তু শ্রমের চাহিদা CC বিন্দুতে ৩০০ একক। ফলে বাজারে শ্রমের চাহিদা শ্রমের জোগানের চেয়ে বেশি হয় (DL>SLD_L > S_L)। এখানে শ্রমের অতিরিক্ত চাহিদা বা শ্রমের ঘাটতির পরিমাণ = (৩০০−১০০)=২০০(৩০০ - ১০০) = ২০০ একক। এই অবস্থায় নিয়োগকর্তাদের মধ্যে শ্রমিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হবে, যার ফলে মজুরির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হবে এবং মজুরি পুনরায় ভারসাম্য স্তর ১০০ টাকায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখাবে।

    ২. ১৫০ টাকা মজুরিতে:
    মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে যখন ১৫০ টাকা হয়, তখন শ্রমের চাহিদা AA বিন্দু অনুযায়ী হ্রাস পেয়ে ১০০ একক হয়, কিন্তু শ্রমের জোগান BB বিন্দু অনুযায়ী বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ একক হয়। ফলে বাজারে শ্রমের জোগান শ্রমের চাহিদার চেয়ে বেশি হয় (SL>DLS_L > D_L)। এখানে শ্রমের অতিরিক্ত জোগান বা বেকারত্বের পরিমাণ = (৩০০−১০০)=২০০(৩০০ - ১০০) = ২০০ একক। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মধ্যে কাজ পাওয়ার প্রতিযোগিতা দেখা দেবে, ফলে মজুরির ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হবে এবং মজুরি পুনরায় হ্রাস পেয়ে ভারসাম্য স্তর ১০০ টাকায় পৌঁছাবে।

    অতএব, ৫০ টাকা মজুরিতে শ্রমবাজারে শ্রমের ঘাটতি বা অতিরিক্ত চাহিদা এবং ১৫০ টাকা মজুরিতে শ্রমের উদ্বৃত্ত বা বেকারত্ব সৃষ্টি হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন