সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হতে বসেছে ধলেশ্বরী গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষেরা। জীবিকা নির্বাহের আশায় তাদের অনেকেই ছুটেছে দূরদূরান্তে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও তারা ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর। ভাগ্য-বিরম্বিত এমনই এক যুবক ইদ্রিসের ঠাঁই হয় শহরের বস্তিতে। রিকশা চালানো দিয়ে জীবিকা শুরু করলেও অবৈধ ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রভাব- প্রতিপত্তিসহ এখন সে অভিজাত এলাকার বাসিন্দা।

  1. ক)

    'লালসালু' উপন্যাসে হাঁপানি রোগী কে?

    (1)
  2. খ)

    'দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা'-কথাটি কখন ও কোন প্রসঙ্গে করা হয়েছে।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত অসহায় মানুষদের জীবানাচরণের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের ইদ্রিস ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'লালসালু' উপন্যাসে হাঁপানি রোগী হলো সোলেমানের বাপ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজিদ নিজের অতীত অভাব-অনটন ও বর্তমান প্রতিপত্তিশালী অবস্থার বৈপরীত্য নিয়ে ভাবার সময় উদ্ধৃত কথাটি মনে করেছে।

    একসময় মজিদের চরম অনাহার ও অভাবের জীবন ছিল; শস্যহীন পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিনিয়ত বাঁচবার সংগ্রাম করতে হতো তাকে। কিন্তু মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত মাজারকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ব্যবসা ফেঁদে সে আজ প্রাচুর্য, প্রভাব ও ক্ষমতার অধিকারী। ভাগ্যের এমন অভাবনীয় পরিবর্তন এবং মানুষের অন্ধ বিশ্বাসের কথা স্মরণ করেই মজিদের মনে হয়েছে—দুনিয়াটা সত্যিই বড় বিচিত্র জায়গা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অসহায় মানুষদের জীবনাচরণের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মানুষের ক্ষুধা নিবারণের তাগিদে অস্তিত্ব রক্ষার নিরন্তর সংগ্রামের সাদৃশ্য রয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসের সূচনাতেই দেখা যায়, মজিদের আদি বাসভূমি যে পাহাড়ি অঞ্চলে, সেখানে পর্যাপ্ত শস্য নেই। শ্রাবণ মাসেও সেখানে অনাহারের হাহাকার চলে। তাই জীবনের তাগিদে, বেঁচে থাকার আশায় সেখানকার মানুষ দেশ ছেড়ে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে, কেউ জাহাজের খালাসি হয় বা অন্য কোনো অনিশ্চিত পেশা বেছে নেয়।

    উদ্দীপকের ধলেশ্বরী গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষেরাও নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে জীবন ও জীবিকার তাগিদে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও দূরদূরান্তে পাড়ি জমিয়েছে। বাঁচার তাগিদে ভিটেমাটি ছেড়ে এই যে অনিশ্চয়তার পথে ছুটে চলা—উপন্যাসের ক্ষুদাতুর মানুষের জীবনসংগ্রামের সাথে উদ্দীপকের অসহায় মানুষের এই বাস্তবতার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ইদ্রিস ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ—উভয়েই টিকে থাকার সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতারণা ও অন্যায়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করায় মন্তব্যটি যথার্থ।

    অস্তিত্ববাদী চেতনার মূল বিষয় হলো প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ অনাহারি অঞ্চল থেকে এসে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এবং সচ্ছলতা অর্জনে একটি পরিত্যক্ত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার সাজিয়ে ধর্মের ভণ্ডামিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ধীরে ধীরে সে গ্রামে কর্তৃত্ব, জমিজমা ও বিপুল প্রতিপত্তি কায়েম করে।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের ইদ্রিসও নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে টিকে থাকার তাগিদে শহরে আসে। সে প্রথমে সৎপথে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করলেও পরে অস্তিত্বের সংকট থেকে মুক্তি পেতে অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল অর্থ-বিত্ত ও ক্ষমতার মালিক বনে যায়।

    মজিদ ধর্মের অপব্যবহার করে এবং ইদ্রিস অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে অনৈতিক পথে প্রতিষ্ঠা পায়। উভয়েরই প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বেঁচে থাকা বা অস্তিত্ব রক্ষা, যা পরবর্তীতে নীতিহীন উপায়ে সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জনে রূপ নেয়। অতএব, উভয়ের আচরণেই বাঁচার তাগিদ ও বিকৃত অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন