বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ঢাকা শহরে শতশত মানুষ আসে। কখনো ট্রেনের ছাদে চড়ে, কখনো বাসে ঝুলতে ঝুলতে, কখনো লঞ্চে আসতে গিয়ে লঞ্চ ডুবে যায়, এভাবেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক, জীবনধারার মানুষ আসে। উত্তর বঙ্গে মঙ্গার সময় মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, দক্ষিণ বঙ্গে বন্যা, নদীভাঙ্গন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পিঁপড়ার সারির মত মানুষ আসে। সকলেরই উদ্দেশ্য একটু খেয়ে-পরে বাঁচবার। দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী এসব মানুষের চোখে-মুখে দুর্ভিক্ষের ভয়াল ছাপ। সবারই ধারণা রাজধানী ঢাকাতে যেতে পারলে অন্তত না খেয়ে মরবো না। সে জন্যই তারা ঢাকায় আসে।
- ক)(1)
মতলুব খাঁর গ্রামের নাম কী?
- খ)(2)
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মানুষগুলোর অবস্থা 'লালসালু' উপন্যাসের কোনদিকটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার অভাবেই প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের এই ছোটাছুটি" -উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মতলুব খাঁ-র গ্রামের নাম মধুপুর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা মজিদের আদি অঞ্চলের খাদ্যাভাব এবং সেই তুলনায় ধর্মের অতিমাত্রিক ও বাহ্যিক আচারের আধিক্যকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের প্রারম্ভে মজিদের জন্মভূমি যে অঞ্চলের, সেখানকার চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে লেখক বলেছেন যে, পাথুরে ও অনুর্বর জমিতে যে পরিমাণ ফসল বা শস্য উৎপাদিত হয়, তার চেয়ে মানুষের মাথায় টুপি অর্থাৎ ধর্মের সংখ্যা ও ধর্মের বাহ্যিক অনুশাসন বেশি। পেটে খাবার না থাকলেও মানুষ ধর্মান্ধতায় ডুবে থাকে এবং সেই ধর্মবিশ্বাসের অপব্যবহার করে তথাকথিত ধর্মের আগাছা চারিদিকে বিস্তার লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানুষগুলোর অবস্থা 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশে বর্ণিত মজিদের স্বদেশ বা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেঁচে থাকার জন্য দেশান্তরী হওয়ার করুণ দিকটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদের আদি অঞ্চলে জমি অনুর্বর এবং জনসংখ্যা বেশি। সেখানে খাদ্যের অভাব এমন চরম পর্যায়ে যে বেঁচে থাকার তাগিদে সেখানকার মানুষ জীবিকার সন্ধানে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজের খালাসি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির কাজ বা যে-কোনো উপায়ে পেট বাঁচানোর তাগিদে মানুষ জন্মভূমি ত্যাগ করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, দেশের নানা প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ বন্যা, নদীভাঙন, মঙ্গা ও দারিদ্র্যের শিকার হয়ে কেবল একটু খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার আশায় রাজধানীতে ছুটে আসে। উপন্যাসে মজিদদের অঞ্চলের অনাহারক্লিষ্ট মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের যে দেশত্যাগী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকের দরিদ্র মানুষের ঢাকায় আগমনের মধ্যে ঠিক সেই বাস্তবতাটিই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার অভাবেই প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের এই ছোটাছুটি"—উক্তিটি সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যথার্থ হলেও 'লালসালু' উপন্যাসে মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও ধর্মীয় ভণ্ডামির দিকটিই প্রধানভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সম্পদ ও উৎপাদনশীল ব্যবস্থার অভাব এবং আত্মকর্মসংস্থানের কোনো বাস্তবসম্মত শিক্ষা না থাকায় পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ধর্মকে জীবিকার উপায় হিসেবে বেছে নেয়। মজিদ কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় ভীতি প্রদর্শন করে মহব্বতনগর গ্রামে নিজের জীবিকা ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করে। সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক বা কর্মমুখী শিক্ষার কোনো সুযোগ বা ধারণা ছিল না, ফলে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসই তাদের আশ্রয় হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়ে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ ঢাকা শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপযুক্ত বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা থাকলে তারা নিজ অঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারত অথবা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারত। যুগোপযোগী শিক্ষার অভাবে তারা চরম ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে রাজধানীতে এসে কায়িক শ্রম বা অনিশ্চয়তার মুখে পতিত হচ্ছে।
সুতরাং, কর্মমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব প্রান্তিক মানুষকে অসহায় ও অন্যের মুখাপেক্ষী করে তোলে, যা উদ্দীপকের মানুষের ঢাকা যাত্রা এবং উপন্যাসে মজিদের মতো সুবিধাবাদীদের বিস্তার ঘটানোর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই উক্তিটি যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও