বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হেরিলে মায়ের মুখ,দূরে যায় সব দুখ,মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,
মায়ের শীতল কোলে
সকল যাতনা ভোলে
কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।
- ক)(1)
'নয়ন নীর' অর্থ কী?
- খ)(2)
বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে' কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'পল্লিজননী' কবিতার যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“ উদ্দীপকে ‘পল্লিজননী' কবিতার সব দিক ফুটে ওঠেনি।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘নয়ন নীর’ অর্থ চোখের জল।
- খ)
চরণটিতে সন্তানের অসুস্থতায় উৎকণ্ঠিত মায়ের একাকী অস্থির মনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
গভীর রাতে অসুস্থ সন্তানের পাশে মা একা জেগে থাকেন। সন্তান ভালো হবে কি না, এই দুশ্চিন্তায় তাঁর মন কখনো আশায়, কখনো আশঙ্কায় দুলতে থাকে। সন্তানের বিরহের ভয়ে মায়ের প্রাণ ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এভাবে চরণটিতে মায়ের নিঃসঙ্গ ও দোলাচলে ভরা অন্তরের বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকে মায়ের মুখ দেখলে সব দুঃখ দূর হয়, মায়ের শীতল কোলে সব যন্ত্রণা জুড়িয়ে যায় এবং মা পরম স্নেহে সন্তানের বুক ভরে দেন। এখানে মায়ের অকৃত্রিম মাতৃস্নেহের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
‘পল্লিজননী’ কবিতাতেও মায়ের নিঃস্বার্থ মমতা ও সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসার চিত্র আছে। অসুস্থ সন্তানের জন্য মা রাত জেগে বসে থাকেন, তাঁর কল্যাণে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। উদ্দীপকের মাতৃস্নেহ এবং কবিতার মায়ের অপত্যস্নেহ এখানে একই সুরে বাঁধা।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে শুধু মায়ের স্নেহময় কোল ও সন্তানের সান্ত্বনার কথা এসেছে, কিন্তু ‘পল্লিজননী’ কবিতার পূর্ণ পরিসর এর চেয়ে বিস্তৃত।
১. কবিতায় অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে মায়ের তীব্র উৎকণ্ঠা, নির্ঘুম রাত জাগা ও সন্তান হারানোর ভয়ের কথা আছে। উদ্দীপকে এই উদ্বেগ নেই।
২. কবিতায় মা সন্তানের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা ও মানত করেন, যেখানে গ্রামীণ মায়ের অসহায়তা ফুটে ওঠে। উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত।
৩. কবিতায় গ্রামবাংলার রাতের নিস্তব্ধ প্রকৃতি, ঝিঁঝিঁ ও জোনাকির পরিবেশ মায়ের বেদনার পটভূমি হয়ে এসেছে। উদ্দীপকে এ পরিবেশ নেই।সুতরাং, উদ্দীপকে ‘পল্লিজননী’ কবিতার সব দিক ফুটে ওঠেনি; কেবল মাতৃস্নেহের একটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও