জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পানিরন্ধ্র কী?
- খ)(2)
মেডুলারী রশ্মি বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
'O' 'R' অংশের সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুতন্ত্রের শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চিত্রে M ও N উদ্ভিদের যে যে অংশে পাওয়া যায় তাদের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের পাতার কিনারায় অবস্থিত যে বিশেষ জলরন্ধ্র দিয়ে তরল আকারে পানি নির্গত হয় (গাটেশন ঘটে), তাকে পানিরন্ধ্র বা হাইডাথোড (Hydathode) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত যে সরু বা প্রশস্ত স্তর মজ্জা থেকে কর্টেক্স বা পেরিসাইকেল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তাকে মেডুলারী রশ্মি বা মজ্জা রশ্মি (Medullary ray) বলে।
এর প্রধান কাজ হলো পানি ও খাদ্যদ্রব্য পার্শ্বীয়ভাবে (অরীয়ভাবে) পরিবহন করা এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্য সঞ্চয় করা। এছাড়া গৌণ বৃদ্ধির সময় এটি থেকে ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'O' হলো ফ্লোয়েম এবং 'R' হলো জাইলেম। জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুতন্ত্রকে ভাস্কুলার বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলা হয়।
ভাস্কুলার বান্ডলের উপাদানসমূহের আপেক্ষিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভাস্কুলার বান্ডলকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সংযুক্ত (Conjoint): এ ধরনের বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রে একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে। এটি দুই প্রকার:
(ক) সমপার্শ্বীয় (Collateral): জাইলেম ভেতরের দিকে এবং ফ্লোয়েম বাইরের দিকে থাকে। ক্যাম্বিয়াম থাকলে তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় (যেমন- দ্বিবীজপত্রী কাণ্ড) এবং না থাকলে আবদ্ধ সমপার্শ্বীয় (যেমন- একবীজপত্রী কাণ্ড) বলে।
(খ) সমদ্বিপার্শ্বীয় (Bicollateral): জাইলেমের উভয় পাশে ফ্লোয়েম এবং ক্যাম্বিয়াম অবস্থান করে (যেমন- লাউ, কুমড়া কাণ্ড)। উদ্দীপকের 'M' চিত্রটি সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বান্ডলের উদাহরণ।২. অরীয় (Radial): জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক বান্ডল তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পর্যায়ক্রমে অবস্থান করে। এটি মূলত উদ্ভিদের মূলে পাওয়া যায় (যেমন- একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী মূল)।
৩. কেন্দ্রিক (Concentric): এক প্রকার পরিবহন টিস্যু কেন্দ্রে থাকে এবং অন্য প্রকার টিস্যু একে সম্পূর্ণ পরিবেষ্টিত করে রাখে। এটি দুই প্রকার:
(ক) জাইলেমকেন্দ্রিক বা হ্যাড্রোসেন্ট্রিক (যেমন- টেরিস)।
(খ) ফ্লোয়েমকেন্দ্রিক বা লেপ্টোসেন্ট্রিক (যেমন- ড্রাসিনা)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে M হলো কাণ্ডে প্রাপ্ত সংযুক্ত (সমদ্বিপার্শ্বীয়) ভাস্কুলার বান্ডল এবং N হলো মূলে প্রাপ্ত অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল সমন্বিত অন্তর্গঠন (মূল)। সুতরাং, উদ্দীপকের M পাওয়া যায় কাণ্ডে এবং N পাওয়া যায় মূলে।
উদ্ভিদের কাণ্ড ও মূলের অন্তর্গঠনগত পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কিউটিকল: কাণ্ডের এপিডার্মিস বা ত্বক কিউটিকলযুক্ত এবং কিউটিনের পুরু আবরণ থাকে। কিন্তু মূলের ত্বক বা এপিব্লেমাতে কিউটিকল অনুপস্থিত।
২. রোম: কাণ্ডের ত্বকীয় রোম সাধারণত বহুকোষী এবং শাখান্বিত হতে পারে। মূলের রোম এককোষী ও শাখাহীন।
৩. ভাস্কুলার বান্ডলের প্রকার: কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত (সমপার্শ্বীয় বা সমদ্বিপার্শ্বীয়) ধরনের। অপরদিকে, মূলের ভাস্কুলার বান্ডল সর্বদা অরীয় ধরনের।
৪. জাইলেমের প্রকৃতি: কাণ্ডে জাইলেম হলো এন্ডার্ক (Endarch), অর্থাৎ প্রোটোজাইলেম ভেতরের দিকে ও মেটাজাইলেম পরিধির দিকে থাকে। মূলে জাইলেম হলো এক্সার্ক (Exarch), অর্থাৎ প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে থাকে।
৫. অধঃত্বক (হাইপোডার্মিস): কাণ্ডে সাধারণত এপিডার্মিসের নিচে কোলেনকাইমা বা স্ক্লেরেনকাইমা নির্মিত হাইপোডার্মিস থাকে। মূলে কোনো হাইপোডার্মিস থাকে না।
৬. পরিচক্র (পেরিসাইকেল): কাণ্ডের পরিচক্র এক বা একাধিক স্তরে গঠিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে জটিল প্রকৃতির হতে পারে। মূলের পরিচক্র সাধারণত একস্তরবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত।
৭. অন্তঃত্বক (এন্ডোডার্মিস): কাণ্ডে অন্তঃত্বক অনুপস্থিত থাকতে পারে বা শ্বেতসার আবরণ হিসেবে থাকে; কিন্তু মূলে সুস্পষ্ট ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপযুক্ত অন্তঃত্বক বিদ্যমান থাকে।অতএব, উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যাবলীর মাধ্যমে উদ্ভিদের কাণ্ড ও মূলের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও