পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
ঘটনা-১: নূরপুর গ্রামের বিত্তশালী কৃষক বদরউদ্দিন। নাতি-নাতনির মুখ দেখার আশায় তার একমাত্র পুত্র আজিজকে অল্প বয়সে বিয়ে দেন। বছর যেতে না যেতেই তিনি দাদা হন। ঘটনা-২: ভালোভাবে খোঁজখবর না নিয়েই রহিম মিয়া তার কন্যা সালমাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের পাত্রের সাথে বিয়ে দেন। সালমার স্বামী বদরাগী স্বভাবের মানুষ। সামান্য ভুল করলে তাকে বেদম প্রহার করে। এর ফলে তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।
- ক)(1)
খাদ্যনিরাপত্তা কী?
- খ)(2)
নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অন্যতম নাগরিক সমস্যা কেন?
- গ)(3)
ঘটনা-১ কোন নাগরিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘটনা-২-এ বর্ণিত সমস্যাটি মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
খাদ্যনিরাপত্তা হলো সব মানুষের জন্য সব সময় পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্তি ও তা কেনার সামর্থ্য নিশ্চিত করা।
- খ)
বাংলাদেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নিরক্ষর। নিরক্ষর মানুষ নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না এবং আধুনিক কাজের দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। ফলে দারিদ্র্য, কুসংস্কার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাড়ে এবং জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অন্যতম নাগরিক সমস্যা।
- গ)
ঘটনা-১ বাল্যবিবাহ সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
১. বদরউদ্দিন নাতি-নাতনির মুখ দেখার আশায় একমাত্র ছেলে আজিজকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছেন। আইনত নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে দেওয়াই বাল্যবিবাহ।
২. এতে ছেলে ও মেয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. কম বয়সে দায়িত্ব নেওয়ায় পরিবারে অশান্তি ও দারিদ্র্য বাড়তে পারে।তাই ঘটনা-১ বাল্যবিবাহকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
ঘটনা-২-এ সালমার স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে পারিবারিক নির্যাতন (নারী নির্যাতন) সমস্যাটি ফুটে উঠেছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নিচের পদক্ষেপ নেওয়া যায়:
১. আইনি পদক্ষেপ: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের অধীনে অপরাধীর বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা। নির্যাতনের শিকার নারী থানা বা আদালতে অভিযোগ করতে পারেন।
২. সচেতনতা বৃদ্ধি: গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা।
৩. সুরক্ষা ও সহায়তা: নির্যাতিত নারীদের জন্য চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং হেল্পলাইনে অভিযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৪. শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন: নারীকে শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে সে নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারে।
৫. বিয়ের আগে সতর্কতা: পাত্র ও তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং মেয়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।এসব উদ্যোগ একযোগে নিলে পারিবারিক নির্যাতন কমানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও