পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বঙ্গবন্ধুর আহবানে সারা দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে গঠিত অস্থায়ী সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে মাত্র নয় মাসের মধ্যে দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দিতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
অপারেশন সার্চলাইট কী?
- খ)(2)
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যটি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন সরকারকে নির্দেশ করে? উক্ত সরকারের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত গণহত্যা পরিচালনা করে, তাকে 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ১লা মার্চ পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে যে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন বলা হয়। ২রা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত চলমান এই আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পূর্ণ বেসামরিক প্রশাসন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যটি পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত ও ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণকারী 'মুজিবনগর সরকার' (বা অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার)-কে নির্দেশ করে।
এই সরকারের গঠন ছিল নিম্নরূপ:
১. রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দি থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন উপরাষ্ট্রপতি)।
২. উপরাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন)।
৩. প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।
৪. অর্থমন্ত্রী: এম. মনসুর আলী।
৫. স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান।
৬. পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।
এছাড়া প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) আতাউল গণি ওসমানী। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অনন্য ও অপরিসীম।
১. বৈধতা ও নেতৃত্ব প্রদান: এ সরকার গঠিত হওয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধ বিশ্ববাসীর কাছে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার বদলে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষার নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধ সংগ্রামে রূপ নেয়।
২. যুদ্ধ পরিচালনা: দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে সেনা কমান্ডার নিয়োগ ও মুক্তিপাগল জনতাকে মুক্তিবাহিনীতে সংগঠিত করে সুশৃঙ্খলভাবে নয় মাস যুদ্ধ পরিচালনা করে এই সরকার।
৩. আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা, শরণার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ভারতসহ বিভিন্ন মিত্র রাষ্ট্রের সমর্থন ও সামরিক সাহায্য আদায়ে এ সরকার অভাবনীয় ভূমিকা রাখে।
৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও প্রচার: দেশবাসীর মনোবল বৃদ্ধি এবং মুক্তিকামী সেনাদের প্রেরণা জোগাতে তথ্য ও প্রচারের চমৎকার সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়।
অতএব, মুজিবনগর সরকারের দূরদর্শী ও সুসংগঠিত নেতৃত্ব ব্যতীত এত দ্রুত মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও