‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

শাপলা দ্বাদশ মানবিকের ছাত্রী। সে তার পরীক্ষার উত্তরপত্রে একটি দেশের সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখে। তথ্যগুলো হলো- 
(i) লিখিত সংবিধান  
(ii) মৌলিক অধিকার  
(iii) সংসদীয় সরকার  
(iv) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

  1. ক)

    ১৯৭২ সালের সংবিধানের খড়সা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব বর্ণনা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শাপলার লেখা তথ্য গুলোর সাথে কোন দেশের সংবিধানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শাপলার লেখা তথ্যের সাথে যে দেশের সংবিধানে মিল আছে সেটি কী উত্তম সংবিধান? বিশ্লেষণ পূর্বক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭২ সালের সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৪ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক অধিকার হলো রাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অধিকার, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মৌলিক অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরকারের স্বৈরাচারী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন নিশ্চিত করে। এর ফলে নাগরিকরা ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাক্‌স্বাধীনতা ও সমতার সুযোগ ভোগ করে এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতের মাধ্যমে তা বলবৎ করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শাপলার লেখা তথ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের গভীর মিল রয়েছে।

    বাংলাদেশ সংবিধানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি লিখিত দলিল। এতে নাগরিকদের জন্য তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত রয়েছে এবং মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের জন্য বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া এতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ভাগে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে শাপলা একটি দেশের সংবিধানের যেসব বৈশিষ্ট্য—(i) লিখিত সংবিধান, (ii) মৌলিক অধিকার, (iii) সংসদীয় সরকার এবং (iv) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কথা উল্লেখ করেছে, তা বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। অতএব, উদ্দীপকের তথ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শাপলার লেখার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি উত্তম সংবিধান হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। নিম্নে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো:

    একটি উত্তম সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে লিখিত রূপ, সুস্পষ্টতা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং বাস্তবধর্মী সরকার ব্যবস্থা। বাংলাদেশের সংবিধানে এই সমস্ত উপাদান বিদ্যমান। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল হওয়ায় এর প্রতিটি ধারা সুস্পষ্ট ও লিখিত আকারে নির্ধারিত। জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সমতার নিশ্চয়তা দিতে এতে ১৮টি মৌলিক অধিকার সংযোজিত হয়েছে এবং তা লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে রিটের মাধ্যমে প্রতিকারের বিধান (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২) রাখা হয়েছে।

    তাছাড়া এতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে সুদৃঢ় করে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ নির্দেশ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির হলেও জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংশোধনের সুযোগ থাকায় এটি স্থবির নয়, বরং সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল।

    সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে, শাপলার নির্দেশিত বাংলাদেশের সংবিধান অবশ্যই একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং উত্তম সংবিধান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন