ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
'দেশ কসমেটিক্স লি.' সম্প্রতি তাদের পণ্য সারিতে নতুন পণ্য হিসেবে "পিওর কোকোনাট অয়েল" নামক নারিকেল তেল অন্তর্ভুক্ত করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে বিক্রয় বিভাগ উত্ত পণ্যের সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তাদেরকে সপ্তাহে কমপক্ষে দশ হাজার একক পণ্য বিক্রি করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে ক্ষতি হবে। তাই মুনাফা অর্জন করতে হলে এর চেয়ে বিক্রয় বাড়াতে হবে।
- ক)(1)
নিয়ন্ত্রণ কী?
- খ)(2)
নিয়ন্ত্রণকে 'কালান্তিক' কাজ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে অবাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশলের কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিয়ন্ত্রণ কৌশল হিসেবে এই পদ্ধতির ব্যবহার কী যুক্তিসঙ্গত?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্য সম্পাদিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা, বিচ্যুতি নির্ণয় করা এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ন্ত্রণকে কালান্তিক কাজ বলা হয় কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদের শেষে সম্পাদিত হয়।
পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়কাল (যেমন— সপ্তাহ, মাস বা বছর) ধরে বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়িত হয়। সময়কাল শেষ হওয়ার পরই অর্জিত ফলাফলের সাথে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনা করে কাজের বিচ্যুতি মূল্যায়ন ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। যেহেতু নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি মূলত মেয়াদের বা কালের শেষে এসে সম্পন্ন করা হয়, তাই একে কালান্তিক কাজ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশলের 'সম-আচ্ছেদ বিন্দু বিশ্লেষণ' (Break-Even Point Analysis) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
যে বিক্রয় স্তরে ব্যবসায়ের মোট ব্যয় এবং মোট আয় সমান হয়, অর্থাৎ লাভ বা ক্ষতি কিছুই হয় না, তাকে সম-আচ্ছেদ বিন্দু (BEP) বলা হয়। এই বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভ বা ক্ষতি থাকে না। এই বিন্দুর নিচে বিক্রি হলে ক্ষতি হয় এবং এর ওপরে বিক্রি করলে মুনাফা অর্জিত হয়। এটি অবাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশলের একটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'দেশ কসমেটিক্স লি.' নতুন পণ্য হিসেবে "পিওর কোকোনাট অয়েল" বাজারে আনার পর বিক্রয় বিভাগ বিবেচনা করে যে, ক্ষতি এড়াতে সপ্তাহে কমপক্ষে ১০,০০০ একক পণ্য বিক্রি করতে হবে। এই পরিমাণ বিক্রি না হলে প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি দেখা দেবে এবং মুনাফা করতে হলে এর চেয়ে বেশি বিক্রি করতে হবে। এই ন্যূনতম বিক্রয়ের মাত্রাটিই হলো সম-আচ্ছেদ বিন্দু। সুতরাং, উদ্দীপকে অবাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশল হিসেবে সম-আচ্ছেদ বিন্দু বা ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ন্ত্রণ কৌশল হিসেবে সম-আচ্ছেদ বিন্দু (BEP) পদ্ধতির ব্যবহার অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। নিম্নে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:
সম-আচ্ছেদ বিন্দু বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো পণ্যের উৎপাদন ব্যয়, বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রয়ের পরিমাণের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে এমন একটি ন্যূনতম বিক্রয় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, যা অর্জন করলে প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকসান হয় না। এর ফলে প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই বুঝতে পারে মুনাফা অর্জনের জন্য সর্বনিম্ন কতটুকু কার্যসম্পাদন বা বিক্রয় প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'দেশ কসমেটিক্স লি.' বাজারে একটি নতুন পণ্য "পিওর কোকোনাট অয়েল" চালু করেছে। নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে বাজার অনিশ্চিত থাকে এবং প্রাথমিক ব্যয় বেশি হতে পারে। এমতাবস্থায় বিক্রয় বিভাগ হিসাব করে দেখেছে যে, সপ্তাহে কমপক্ষে ১০,০০০ একক বিক্রি না হলে প্রতিষ্ঠানকে লোকসান গুনতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।
এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ফলে কর্মীরা তাদের কাজের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়েছে এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কাজের অগ্রগতি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। এই কৌশলের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ, স্থির ব্যয় ও পরিবর্তনশীল ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হয়। অতএব, নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস ও সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কৌশল হিসেবে এই পদ্ধতির ব্যবহার সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও