বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের রাতের গণহত্যার জের ধরে ২৬ মার্চ দিনের বেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকায় আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল। কারফিউয়ের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ দলে দলে পালাতে শুরু করে। অনেকে পরিচিতজনদের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসযজ্ঞের নমুনা। যেখানে সেখানে পড়েছিল মৃতদেহ।
- ক)(1)
'রেইনকোট' গল্পের উর্দুর প্রফেসরের নাম কী?
- খ)(2)
'তারাও তাকে চেনে এবং তার ওপর তাদের আস্থাও কম নয়।' কথাটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত ঢাকা শহরে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তুলনামূলক চিত্র বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্রভাব ধারণ করেনি।"-মন্তব্যটি প্রসঙ্গে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রেইনকোট' গল্পের উর্দুর প্রফেসরের নাম আকবর সাজিদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা নুরুল হুদার ওপর আলমারিওয়ালার (গেরিলাদের) আস্থা এবং যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ এবং মিলিটারিরা নুরুল হুদাকে সন্দেহ করে ডেকে পাঠায় যে সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুক্ত। প্রিন্সিপাল নুরুল হুদাকে কলেজের আলমারি সরবরাহকারী কুলিদের (প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা) সন্ধান দিতে বলেন। প্রিন্সিপালের মতে, নুরুল হুদাই তাদের কলেজে ডেকে এনেছিল। তাই প্রিন্সিপাল মন্তব্য করেন যে কুলিরাও (মুক্তিযোদ্ধারা) নুরুল হুদাকে চেনে এবং তার ওপর তাদের আস্থাও কম নয়, যার কারণে তারা সহজে নুরুল হুদার সূত্র ধরে কলেজে প্রবেশ ও অপারেশন চালাতে পেরেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্প উভয়েই মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা শহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের বর্বর গণহত্যার পরদিন ২৬ মার্চের ঢাকার চিত্র ফুটে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আগুনের কুণ্ডলী, মানুষের পলায়নপর অবস্থা এবং যেখানে-সেখানে পড়ে থাকা লাশের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস ধ্বংসলীলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি মিলিটারির ঢাকা শহরে ত্রাস ও ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চিত্র পাওয়া যায়। ঢাকার রাস্তায় প্রতিনিয়ত মানুষের দিকে বন্দুক তাক করে থাকা, গাড়ি থামিয়ে নিরীহ মানুষকে জেরা করা, কলেজের দেয়াল ভেঙে ফেলা এবং যাকে-তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও হত্যা করার রূপ চিত্রিত হয়েছে। তবে উদ্দীপকে ২৫ মার্চের তাৎক্ষণিক ধ্বংস ও পলায়নের প্রত্যক্ষ চিত্র রয়েছে, আর 'রেইনকোট' গল্পে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সার্বক্ষণিক আতঙ্ক, কারফিউ ও মিলিটারিদের বর্বর নির্যাতনের পরোক্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী চিত্র ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্রভাব ধারণ করেনি।"—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে কেবল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞ, আগুন, লাশের স্তূপ এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পলায়নের বাহ্যিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের পাকিস্তানি বর্বরতার একটি খণ্ডাংশ মাত্র।
অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের পরিধি আরও অনেক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। গল্পটিতে অবরুদ্ধ ঢাকায় পাকিস্তান বাহিনীর ভীতি ও বর্বরতার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ, সাধারণ মানুষের অবচেতন দেশপ্রেম এবং ভীরু চরিত্রের রূপান্তরের গল্প বলা হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র নুরুল হুদা একজন ভীতু সাধারণ কলেজের প্রভাষক হলেও শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে জড়ানোর পর তার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটে। সে নিজের ভেতর এক অদ্ভুত সাহস ও দেশপ্রেম অনুভব করে। মিলিটারিদের নির্মম চাবুকের আঘাত সহ্য করেও সে মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ করেনি, বরং নিজেকে গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সহযোদ্ধা মনে করেছে।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল পাকিস্তানি হানাদারদের ধ্বংস ও নির্মমতার খণ্ডচিত্র এসেছে, কিন্তু 'রেইনকোট' গল্পের মূল সুর—বাঙালির প্রতিরোধ চেতনা, গেরিলা তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের আত্মিক রূপান্তর—উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্রভাব ধারণ করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও