সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
জাকির হোসেন একজন সম্পদশালী ব্যক্তি। তিনি তার এলাকায় একটি মসজিদ স্থাপনের জন্য এক বিঘা জমি আইনানুগভাবে দান করেন। উক্ত মসজিদে ছেলে-মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। এরফলে উক্ত এলাকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধেরবিকাশ ঘটে।
- ক)(1)
বায়তুল মাল কী?
- খ)(2)
সামাজিক পুরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জাকির হোসেন এর কর্মকাণ্ড কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত কার্যক্রমের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়তুল মাল হলো ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার, যা মুসলিম সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও দরিদ্রদের সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবর্তন বলতে কোনো সমাজের গঠন, সামাজিক কাঠামো, প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণের স্থায়ী বা রূপান্তরমূলক পরিবর্তনকে বোঝায়। সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিসের মতে, সামাজিক পরিবর্তন হলো সামাজিক সংগঠনের তথা সমাজের কাঠামো ও কার্যাবলির মধ্যকার পরিবর্তন। সামাজিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শিক্ষা ও চিন্তাধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন সাধিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাকির হোসেনের কর্মকাণ্ডে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-এর প্রতিফলন দেখা যায় এবং এর সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কোনো মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক তার নিজস্ব সম্পত্তি স্থায়ীভাবে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক বা জনহিতকর কোনো উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলে। ওয়াকফকৃত সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি হস্তান্তর, বিক্রি বা বিনষ্ট করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্পদশালী জাকির হোসেন তাঁর এলাকায় একটি মসজিদ স্থাপনের জন্য এক বিঘা জমি আইনানুগভাবে দান করেন। এই জমি স্থায়ীভাবে মসজিদ এবং দ্বীনি শিক্ষা পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে নিজের সম্পত্তি স্থায়ী ও আইনানুগভাবে উৎসর্গ করার এই কার্যক্রম পুরোপুরি ইসলামি সমাজকল্যাণের ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান 'ওয়াকফ'-এর ধারণাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত কার্যক্রমটি হলো 'ওয়াকফ', যার সমাজকল্যাণমূলক ও নৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও শিক্ষাবিস্তার: ওয়াকফের মাধ্যমে মসজিদ ও তৎসংলগ্ন মক্তব বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে শিশু-কিশোররা ধর্মীয় ও নীতিশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারছে।
২. ইতিবাচক মূল্যবোধ ও নৈতিক চরিত্র গঠন: দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে এলাকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে সততা, পরোপকার, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার মতো ইতিবাচক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটছে, যা উদ্দীপকেও উল্লেখ রয়েছে।
৩. সামাজিক উন্নয়ন ও সংহতি: ওয়াকফকৃত প্রতিষ্ঠান সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একত্রিত করে। মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়, বরং তা সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
৪. টেকসই সমাজকল্যাণ: ওয়াকফের মাধ্যমে দানকৃত সম্পত্তি চিরস্থায়ী রূপ লাভ করে। ফলে এর কল্যাণপ্রসূ প্রভাব যুগের পর যুগ ধরে সমাজে বজায় থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, জাকির হোসেনের মতো ব্যক্তিদের এমন উদ্যোগ সমাজের ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও সামাজিক উন্নয়নে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক চরিত্র গঠনে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও