অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'A' একটি উন্নয়নশীল দেশ। নিম্নে 'A' দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ দেখানো হলো-

- ক)(1)
নিট অভিবাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
মানবসম্পদ উন্নয়নে সুস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যসমূহ কোন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত তত্ত্বটি কি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশে বহিরাগমনকারী (Immigrants) ও দেশান্তরকারীর (Emigrants) সংখ্যার পার্থক্যকে নিট অভিবাসন (Net Migration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবসম্পদ উন্নয়নে সুস্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুস্বাস্থ্য ছাড়া কোনো ব্যক্তি তার কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে না। একজন সুস্থ ও সবল মানুষ নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে সক্ষম হন, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে। অপরদিকে, অসুস্থ বা দুর্বল জনশক্তি দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের চিকিৎসা বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়। তাই মানবসম্পদের সঠিক বিকাশ, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সুস্বাস্থ্য একটি মৌলিক পূর্বশর্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যসমূহ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস কর্তৃক প্রদত্ত 'ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে খাদ্যের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে খাদ্যঘাটতি ও ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে 'A' দেশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:
- ১৯৪৫ সালে জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি এবং খাদ্য উৎপাদন ২ একক।
- ১৯৭০ সালে জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে হয় ৮ কোটি এবং খাদ্য উৎপাদন বেড়ে হয় ৩ একক।
- ২০২০ সালে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ কোটিতে এবং খাদ্য উৎপাদন দাঁড়ায় ৪ এককে।
এখানে জনসংখ্যা ৪ থেকে ৮, অতঃপর ৩২ অর্থাৎ গুণোত্তর বা জ্যামিতিক ধারার কাছাকাছি হারে অতিদ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে খাদ্য উৎপাদন ২ থেকে ৩, অতঃপর ৪ অর্থাৎ সমান ব্যবধানে গাণিতিক ধারায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে প্রদর্শিত জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের এ অসম বৃদ্ধির ধারাটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মূল বক্তব্যকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. ম্যালথাসের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী খাদ্যের চেয়ে জনসংখ্যা বহুগুণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে চরম দুর্ভিক্ষ ও বিপর্যয় ঘটার কথা ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে বাংলাদেশ উচ্চ ফলনশীল জাত (HYV) বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন (সবুজ বিপ্লব) এনেছে। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে খাদ্য উৎপাদনের বৃদ্ধির গতি অনেক বেশি অর্জিত হয়েছে এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে।
২. ম্যালথাস জনসংখ্যার ক্ষেত্রে প্রতিরোধক ব্যবস্থার চেয়ে প্রাকৃতিক নিরোধের (যেমন মহামারি, দুর্ভিক্ষ) ওপর জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম, শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে জন্মহার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
৩. ম্যালথাস জনসংখ্যাকে শুধুমাত্র উপভোক্তা ও বোঝা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক ধারণায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাড়তি জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভূমির তুলনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি এবং কর্মসংস্থান ও পরিবেশের ওপর জনসংখ্যার চাপ রয়েছে। কিন্তু ম্যালথাস যেভাবে অনাহার ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে ভারসাম্যের কথা বলেছিলেন, আধুনিক কৃষিবিজ্ঞান ও মানবিক সক্ষমতার কারণে তা বাস্তবে ঘটেনি। অতএব বলা যায়, তত্ত্বটি বাংলাদেশের সামগ্রিক ও বর্তমান বাস্তবতায় সরাসরি প্রযোজ্য নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও