কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিমা বেগমের গবাদিপশুর খামারে একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। দেহে কাঁপুনি উঠে ছটফট করতে থাকে। পরে মারা যায়। মারা যাওয়ার সময় নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে ফেনাযুক্ত রক্ত বের হয়। এমতাবস্থায়, রহিমা পশু চিকিৎসককে ডাকলে তিনি গরুটিকে পর্যবেক্ষণ করে বলেন এটি একটি মারাত্মক রোগ যাতে খামারের অন্যান্য গরু আক্রান্ত হতে পারে। পশু চিকিৎসক রহিমা বেগমকে বললেন রোগ হওয়ার পূর্বেই তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উত্তম।

  1. ক)

    সংক্রামক রোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্ল‍্যাক বেঙ্গল ছাগলের বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গরুটির কোন রোগ হয়েছে? উক্ত রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    পশু চিকিৎসকের শেষোক্ত উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব রোগ কোনো না কোনো জীবাণু (যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি) দ্বারা সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে সংক্রামিত হতে পারে, সেগুলোকে সংক্রামক রোগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. দেহের রঙ সাধারণত কালো, তবে বাদামি বা সাদা রঙেরও হতে পারে। এদের দেহের গঠন আঁটসাঁট ও পাগুলো তুলনামূলক খাটো।
    ২. এদের প্রজনন ক্ষমতা বেশি; বছরে সাধারণত দুইবার এবং প্রতিবারে ২ থেকে ৩টি করে বাচ্চা প্রসব করে। এদের মাংস সুস্বাদু এবং চামড়া আন্তর্জাতিক মানের।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রহিমা বেগমের গরুটির 'তড়কা' বা 'অ্যানথ্রাক্স' (Anthrax) রোগ হয়েছে।

    কারণ:
    তড়কা একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এটি 'ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস' (Bacillus anthracis) নামক রড আকৃতির ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ঘটে থাকে।

    লক্ষণসমূহ:
    ১. দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় (১০৬°-১০৭° ফা.)।
    ২. পশুর দেহে কাঁপুনি ওঠে এবং পশু ছটফট করতে করতে খুব দ্রুত মারা যায়।
    ৩. মৃত্যুর সময় বা পরে নাক, মুখ, মলদ্বার ও যোনিপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালচে ও ফেনাযুক্ত রক্ত নির্গত হয়, যা সহজে জমাট বাঁধে না।
    ৪. মৃত্যুর পর মৃতদেহ খুব দ্রুত ফুলে ওঠে এবং পচন শুরু হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পশু চিকিৎসকের মন্তব্যটি ছিল— "রোগ হওয়ার পূর্বেই তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উত্তম"। উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।

    তড়কা অত্যন্ত মারাত্মক, সংক্রামক এবং অতি-তীব্র (peracute/acute) ধরনের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগটি এত দ্রুত প্রাণঘাতী রূপ নেয় যে পশুটি লক্ষণ প্রকাশের স্বল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়। ফলে উপযুক্ত চিকিৎসার সময় ও সুযোগ পাওয়া যায় না। এছাড়া তড়কা রোগের ব্যাকটেরিয়া স্পোর তৈরি করে, যা মাটির নিচে বহু বছর টিকে থাকতে পারে এবং সহজেই খামারের অন্যান্য সুস্থ পশুর দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি একটি জুনোটিক রোগ হওয়ায় খামারি ও মানুষের মধ্যেও ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

    তাই এ রোগ থেকে খামারকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকরী ও নিরাপদ উপায় হলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। নিয়মিত সময়মতো তড়কা প্রতিষেধক টিকা (Anthrax Vaccine) প্রদান করলে পশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। এছাড়া খামারের জৈবনিরাপত্তা রক্ষা করা, মৃত পশুর শরীর না কেটে চুন দিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা ইত্যাদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমেই অন্যান্য গবাদিপশুকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

    সুতরাং, তড়কা রোগের মারাত্মক ধ্বংসাত্মক দিক বিবেচনা করে চিকিৎসকের শেষোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন