কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
অনিক তার বন্ধুদের সাথে বনে বেড়াতে দিয়ে দেখল অনেক। গাছে মৌচাক এবং বনের মাঝে একটি নদী বয়ে গেছে। আবার অনেক গাছের শিকড় মাটি ভেদ করে উপরে উঠে এসেছে। তারা সেখানে কর্মরত বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারলো, এই বনটি জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- ক)(1)
বন কী?
- খ)(2)
বৃক্ষ মেলার গুরুত্ব লেখো।
- গ)(3)
অনিকের দেখা বনটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বা কৃত্রিমভাবে রোপিত বৃক্ষরাজি দ্বারা আবৃত বিস্তৃত ভূমিকে বন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃক্ষ মেলা জনসাধারণের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আগ্রহ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ মেলার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ও ঔষধি উদ্ভিদের চারা এবং এদের রোপণ ও পরিচর্যা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করতে পারে। এছাড়া সুলভ মূল্যে উন্নত জাতের সুস্থ-সবল চারা সংগ্রহ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের সামগ্রিক বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অনিকের দেখা বনটি হলো বাংলাদেশের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন বা সুন্দরবন। কারণ এখানে গাছের শিকড় মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসার কথা বলা হয়েছে, যা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অনিকের দেখা বনটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর: উপকূলীয় লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় উদ্ভিদের মূল মাটি ভেদ করে খাঁড়ার মতো উপরে উঠে আসে এবং বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে।
২. ঠেস মূল: জোয়ার-ভাটার টান ও নরম কাদামাটিতে গাছকে সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করার জন্য কাণ্ডের গোড়া থেকে ঠেস মূল বের হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে।
৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: গাছে ফল থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে, যাতে লবণাক্ত পানিতে বীজ ভেসে নষ্ট না হয়ে মাটিতে গেঁথে যেতে পারে।
৪. উদ্ভিদের বৈচিত্র্য: এ বনে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা ইত্যাদি লবণাক্ততা সহনশীল বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়। এছাড়া বনের মধ্য দিয়ে অসংখ্য নদী-নালা ও খাল জালের মতো বিস্তৃত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো—"এই বনটি জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখে"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।
সুন্দরবন বা ম্যানগ্রোভ বন এক অনন্য বাস্তুতন্ত্র ধারণ করে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঢাল বা দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
প্রথমত, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায়: এ বনটি বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বন্যশূকর, কুমির, ডলফিনসহ শত শত প্রজাতির পাখি, মাছ ও সরীসৃপের নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এখানে রয়েছে প্রচুর মৌমাছির চাক, যা থেকে বিপুল পরিমাণ মধু ও মোম পাওয়া যায়। গাছপালা ও জলজ প্রাণীর নিবিড় সহাবস্থানে এক সমৃদ্ধ খাদ্যজাল ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় থাকে।
দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস (যেমন—সিডর, আইলা, আম্পান) এবং সামুদ্রিক জোয়ারের গতিবেগ সুন্দরবনের ঘন গাছপালা ও শ্বাসমূলের বাধায় ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ফলে উপকূলবর্তী জনপদ ও জানমালের ক্ষতি বহুলাংশে কমে যায়। এছাড়া এটি মাটির ক্ষয়রোধ করে এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলের ভাঙন প্রতিরোধে সহায়তা করে।
অতএব, সুন্দরবনের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে বলা যায় যে, এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও