মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জুনায়েদ একজন আলোকিত মানুষ। সে সৎ, নির্ভীক এবং দেশপ্রেমিক। তার মা-বাবা ছোটবেলা থেকে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে বড় করেছেন। সে তার শিক্ষক ও সহপাঠীদের থেকে অনেক কিছু শিখেছে। এটি তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তার ডাই নবীন ব্যবসায়-বাণিজ্যে খুবই আগ্রহী।। সে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হতে চায়।
- ক)(1)
তাত্ত্বিক মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
মূল্যবোধ সমাজের চালিকাশিন্ত কেন?
- গ)(3)
নবীনের মধ্যে যে ধরনের মূল্যবোধ দেখা যায় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
যে সব মাধ্যম জুনায়েদের মূল্যবোধ গঠনে প্রভাব বিস্তার করেছে তা বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সত্য অনুসন্ধান, জ্ঞানার্জন এবং বিচার-বিশ্লেষণের প্রতি যে মূল্যবোধের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়, তাকে তাত্ত্বিক মূল্যবোধ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার এমন কিছু মানদণ্ড, যা সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখে। সমাজের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ন্যায়-অন্যায় বোধ, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং নৈতিকতা মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। মূল্যবোধের উপস্থিতির কারণেই সমাজ সংঘাতমুক্ত থাকে এবং প্রগতির দিকে ধাবিত হয়। তাই মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নবীনের মধ্যে 'অর্থনৈতিক মূল্যবোধ' (Economic Value) দেখা যায়।
মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড স্প্র্যাঞ্জারের (Eduard Spranger) মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বাস্তবসম্মত, জাগতিক লাভ-ক্ষতি, উপযোগিতা এবং ধন-সম্পদ অর্জনের প্রতি বেশি আগ্রহী, তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ প্রধান হয়ে ওঠে। এ ধরনের ব্যক্তিরা অর্থোপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈষয়িক সাফল্যকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য মনে করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নবীনের ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং সে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হতে চায়। নবীনের এই মনোভাব সম্পূর্ণরূপে বস্তুগত লাভ এবং অর্থ উপার্জনের আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে। সুতরাং, নবীনের মানসিকতা ও লক্ষ্যের মধ্যে অর্থনৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ সুস্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জুনায়েদের মূল্যবোধ গঠনে মূলত পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (শিক্ষক ও সহপাঠী)—এই মাধ্যম দুটি প্রধান প্রভাব বিস্তার করেছে। নিচে মাধ্যমগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পরিবার: মূল্যবোধ গঠনের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম হলো পরিবার। শিশুর মানসিক বিকাশ ও সামাজিকীকরণ পরিবার থেকেই শুরু হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, জুনায়েদের মা-বাবা ছোটবেলা থেকে তাকে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে বড় করেছেন। বাবা-মায়ের এই অনুশাসন জুনায়েদকে সৎ, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হতে এবং তার মধ্যে নৈতিক ভিত্তিমূল্য দৃঢ় করতে মূল ভূমিকা রেখেছে।
২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক: আনুষ্ঠানিক মূল্যবোধ অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও নৈতিকতার পথ দেখান। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, জুনায়েদ তার শিক্ষকদের কাছ থেকে অনেক ভালো গুণাবলি ও আদর্শ শিক্ষা গ্রহণ করেছে, যা তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে সাহায্য করেছে।
৩. সহপাঠী বা সমবয়সী দল: শিশুর ব্যক্তিত্ব ও আচরণ গঠনে সহপাঠীদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। দলগত কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার মতো মূল্যবোধগুলো সহপাঠীদের মাধ্যমেই বিকশিত হয়। জুনায়েদও তার সহপাঠীদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে ইতিবাচক আচরণ রপ্ত করেছে।
সুতরাং, উপযুক্ত পারিবারিক অনুশাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাহচর্য—এই মাধ্যমগুলোর সমন্বিত প্রভাবেই জুনায়েদের মধ্যে উন্নত ও আলোকিত মূল্যবোধ গঠিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও