ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
ফাতেমাকে তার বাবার কলেজে আসার সময় ৫ টাকা ও ১০ টাকার কয়েকটি নোট দিলেন। সে দেখল এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ব্যবহৃত হয়েছে এবং তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর রয়েছে। সে বাসে যেতে তার ব্যাগ থেকে একটা নোট বের করল যার উপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা এবং অর্থসচিব এতে স্বাক্ষর করেছেন।
- ক)(1)
পে-অর্ডার কী?
- খ)(2)
ব্যাংক ড্রাফট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ফাতেমা পরবর্তীতে যে নোট ব্যাগ থেকে বের করেছে তা কোন ধরনের নোট? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'বড় ধরনের লেনদেনের বাবা প্রদত্ত নোট ফাতেমার নিকট থাকা নোট অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ'- বক্তব্যের সত্যতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পে-অর্ডার (Pay Order) হলো একটি নির্দিষ্ট শহর বা ব্যাংক শাখার আওতাভুক্ত এলাকায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের ওপর ব্যাংকেরই আদেশনামা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংক ড্রাফট হলো এক ব্যাংকের কোনো নির্দিষ্ট শাখা কর্তৃক একই ব্যাংকের অন্য কোনো শাখার ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট প্রাপককে প্রদানের লিখিত নির্দেশনামা।
সাধারণত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদে ও দ্রুত অর্থ প্রেরণের জন্য ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহৃত হয়। গ্রাহক ব্যাংকে সমপরিমাণ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কমিশন জমা দিয়ে ব্যাংক ড্রাফট সংগ্রহ করেন। ড্রাফট কখনো ব্যাংক কর্তৃক অমর্যাদাকৃত হয় না বলে এটি লেনদেনে অত্যন্ত নিরাপদ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফাতেমা পরবর্তীতে ব্যাগ থেকে যে নোটটি বের করেছে তা হলো 'সরকারি নোট' (Government Note)।
যেসব কাগজি নোট বা মুদ্রা সরাসরি দেশের সরকার (অর্থ মন্ত্রণালয়) কর্তৃক জারি করা হয় এবং যার ওপর অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে, তাকে সরকারি নোট বলে। সরকারি নোট হলো সরকারের প্রত্যক্ষ ঋণস্বীকৃতি এবং এটি সসীম বিহিত মুদ্রা হিসেবে গণ্য।
উদ্দীপকে ফাতেমার ব্যাগ থেকে বের করা নোটটিতে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' লেখা রয়েছে এবং এতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর রয়েছে। বাংলাদেশে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার (বর্তমানে) নোট ও ধাতব মুদ্রা সরকারি মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত, যাতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে। সুতরাং, উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফাতেমার নোটটি একটি সরকারি নোট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বড় ধরনের লেনদেনে বাবা প্রদত্ত নোট ফাতেমার নিকট থাকা নোট অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ"— বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য।
অর্থনীতিতে বিহিত মুদ্রাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়— সসীম বিহিত মুদ্রা ও অসীম বিহিত মুদ্রা। যে বিহিত মুদ্রা আইনগতভাবে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত গ্রহণ করতে জনগণ বাধ্য থাকে, তাকে সসীম বিহিত মুদ্রা বলে। পক্ষান্তরে, যে মুদ্রা দ্বারা যেকোনো পরিমাণ বা বড় অঙ্কের দেনা-পাওনা আইনগতভাবে মেটানো যায় এবং গ্রহীতা তা গ্রহণে বাধ্য থাকে, তাকে অসীম বা সীমাহীন বিহিত মুদ্রা বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রচলিত ব্যাংক নোটগুলো অসীম বিহিত মুদ্রা।
উদ্দীপকে ফাতেমার বাবা তাকে ৫ টাকা ও ১০ টাকার ব্যাংক নোট দিয়েছিলেন (যার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর ছিল)। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবর্তিত নোটগুলো (যেমন- ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ টাকার নোট) হলো সীমাহীন বা অসীম বিহিত মুদ্রা। অন্যদিকে, ফাতেমার কাছে থাকা নোটটি সরকারি নোট (অর্থসচিবের স্বাক্ষরযুক্ত), যা মূলত সসীম বিহিত মুদ্রা। আইনত সসীম বিহিত মুদ্রা দ্বারা বড় ধরনের লেনদেন বা যেকোনো অঙ্কের দেনা পরিশোধ করা সম্ভব নয় বা কাউকে তা গ্রহণে বাধ্য করা যায় না। কিন্তু ব্যাংক নোট অসীম বিহিত মুদ্রা হওয়ায় এর মাধ্যমে যেকোনো বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেন সহজেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
অতএব, লেনদেনের পরিধি, ব্যাপকতা এবং আইনের বাধ্যবাধকতার দিক বিবেচনায় বড় ধরনের লেনদেনে ফাতেমার বাবার প্রদত্ত ব্যাংক নোটটি ফাতেমার সরকারি নোট অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও