রসায়ন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

চারটি মৌলের যোজ্যতা স্তরের ইলেকট্রন বিন্যাস নিচে দেয়া হল-এখানে n=2 \text{n} = 2

মৌল | P | Q | R | S
যোজ্যতা স্তর | ns2np2 \text{ns}^2\text{np}^2 | ns2 \text{ns}^2 | (n+1)s2(n+1)p5 (\text{n}+1)\text{s}^2(\text{n}+1)\text{p}^5 | (n+1)s2 (\text{n}+1)\text{s}^2

  1. ক)

    আলফা কণা কী?

    (1)
  2. খ)

    এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    Q, R এবং S, R দ্বারা গঠিত যৌগের মধ্যে কোনটি গলনাংক বেশি-ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    P এবং R মৌল দ্বারা গঠিত যৌগের আকৃতি কেমন হবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আলফা কণা হলো দ্বি-ধনাত্মক আধানযুক্ত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (^4_2He^{2+}), যাতে দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন থাকে কিন্তু কোনো ইলেকট্রন থাকে না।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এনজাইম হলো উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট জটিল নাইট্রোজেনঘটিত প্রোটিন অণু, যা জীবদেহে সংঘটিত বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি বা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রভাবকের মতো কাজ করে। বিক্রিয়া শেষে এনজাইমের গঠন ও ভর অপরিবর্তিত থাকে। যেহেতু এটি জীবকোষে তৈরি হয় এবং জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করে, তাই এনজাইমকে 'জৈব প্রভাবক' বা বায়োক্যাটালিস্ট বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুসারে, n = 2 হলে:
    Q মৌলের যোজ্যতা স্তর 2s² হওয়ায় মৌলটি হলো বেরিলিয়াম (Be)।
    R মৌলের যোজ্যতা স্তর (2+1)s² (2+1)p⁵ = 3s² 3p⁵ হওয়ায় মৌলটি হলো ক্লোরিন (Cl)।
    S মৌলের যোজ্যতা স্তর (2+1)s² = 3s² হওয়ায় মৌলটি হলো ম্যাগনেসিয়াম (Mg)।

    অতএব, Q ও R দ্বারা গঠিত যৌগ হলো BeCl₂ এবং S ও R দ্বারা গঠিত যৌগ হলো MgCl₂।
    যৌগ দুটির মধ্যে MgCl₂-এর গলনাঙ্ক বেশি।

    ব্যাখ্যা:
    ফাজানের নীতি অনুসারে, অ্যানায়নের আকার ও চার্জ একই হলে ক্যাটায়নের আকার যত ছোট হয়, তার পোলারায়ন ক্ষমতা তত বৃদ্ধি পায় এবং যৌগের মধ্যে সমযোজী বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পেয়ে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়।

    BeCl₂ এবং MgCl₂ উভয় যৌগের অ্যানায়ন একই (Cl⁻) এবং ক্যাটায়নের চার্জও সমান (+2)। কিন্তু পর্যায় সারণির একই গ্রুপের (গ্রুপ-২) হওয়ায় Be²⁺ আয়নের আকার Mg²⁺ আয়নের আকারের চেয়ে ছোট।

    ফলে Be²⁺ আয়নের চার্জ ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এটি Cl⁻ অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘকে Mg²⁺ অপেক্ষা অধিক পোলারায়িত করে। এর ফলে BeCl₂ যৌগে সমযোজী বৈশিষ্ট্য অধিক প্রকাশ পায়। অন্যদিকে MgCl₂-এ পোলারায়ন কম হওয়ায় এটি অধিক আয়নিক প্রকৃতির হয়।

    আয়নিক বন্ধন সমযোজী বন্ধন অপেক্ষা শক্তিশালী হওয়ায় MgCl₂-এর ল্যাটিস ভাঙতে বেশি তাপশক্তির প্রয়োজন হয়। তাই BeCl₂ অপেক্ষা MgCl₂-এর গলনাঙ্ক বেশি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুসারে, n = 2 হলে:
    P মৌলের যোজ্যতা স্তরের বিন্যাস 2s² 2p²; সুতরাং P হলো কার্বন (₆C)।
    R মৌলের যোজ্যতা স্তরের বিন্যাস 3s² 3p⁵; সুতরাং R হলো ক্লোরিন (₁₇Cl)।

    সুতরাং, P এবং R মৌল দ্বারা গঠিত যৌগটি হলো কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl₄)।

    যৌগটির আকৃতি ও বিশ্লেষণ:
    ১. সংকরায়ন নির্ণয়:
    CCl₄ যৌগের কেন্দ্রীয় পরমাণু কার্বনের (C) স্বাভাবিক ও উত্তেজিত অবস্থার ইলেকট্রন বিন্যাস হলো:
    ₆C → 1s² 2s² 2p_x¹ 2p_y¹ 2p_z⁰
    ₆C* → 1s² 2s¹ 2p_x¹ 2p_y¹ 2p_z¹

    উত্তেজিত অবস্থায় কার্বনের যোজ্যতা স্তরের একটি 's' এবং তিনটি 'p' অরবিটালের মিশ্রণে চারটি সমতুল্য sp³ সংকর অরবিটাল গঠিত হয়। এই সংকর অরবিটালগুলো ত্রিমাত্রিক স্থানে চতুস্তলকীয়ভাবে ১২০° নয়, বরং ১০৯°২৮' কোণে বিন্যস্ত থাকে।

    ২. বন্ধন গঠন:
    কার্বনের চারটি sp³ সংকর অরবিটালের প্রতিটির সাথে চারটি ক্লোরিন পরমাণুর অযুগ্ম ইলেকট্রনযুক্ত 3p_z অরবিটালের সামনাসামনি অধিক্রমণের মাধ্যমে চারটি কার্বন-ক্লোরিন (C-Cl) সিগমা (σ) বন্ধন গঠিত হয়।

    ৩. মুক্তজোড় ইলেকট্রনের প্রভাব (VSEPR তত্ত্ব):
    CCl₄-এর কেন্দ্রীয় কার্বন পরমাণুতে ৪ জোড়া বন্ধনজোড় ইলেকট্রন (bp = 4) রয়েছে এবং কোনো মুক্তজোড় ইলেকট্রন নেই (lp = 0)। ফলে কোনো লোন পেয়ার-বন্ড পেয়ার বিকর্ষণ থাকে না।

    অতএব, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (CCl₄) অণুর জ্যামিতিক আকৃতি সুষম 'চতুস্তলকীয়' (Tetrahedral) এবং এর বন্ধন কোণ (Cl-C-Cl) হলো ১০৯.৫° (বা ১০৯°২৮')।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন