পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' মহাদেশের একটি বৃহৎ অঞ্চলের পাশাপাশি দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসন বিদ্যমান থাকায় দুই সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকে। সাম্প্রদায়ের দুটির জনগণের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা সমাধান হয়নি। পরিশেষে কর্তৃপক্ষ দুটি সম্প্রদায়কে আলাদা করার চিন্তা করে পার্লামেন্টে আইন পাস করে। এ আইন অনুযায়ী দুই সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ফলে দীর্ঘদিন পর সম্প্রদায় দুটির জনগণের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
- খ)(2)
বারাসাত বিদ্রোহ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনে তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ শাসন ও নীলকর সাহেব এবং স্থানীয় জমিদারদের অন্যায় অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিতুমীরের নেতৃত্বে ১৮৩১ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসাতে যে সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, তা ইতিহাসে 'বারাসাত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত। এ বিদ্রোহে তিতুমীর নারকেলবাড়িয়ায় একটি বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতে প্রধান দুটি সম্প্রদায় হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত সমাধানের জন্য ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ (যেমন গোলটেবিল বৈঠক, ক্যাবিনেট মিশন ইত্যাদি) গ্রহণ করেও ব্যর্থ হয়। পরিশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে 'ভারত স্বাধীনতা আইন' পাস করা হয়। এই আইন অনুসারে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম ডোমিনিয়ন বা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের সংঘাত নিরসনে কর্তৃপক্ষের পার্লামেন্টে আইন পাস করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনাটি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের হুবহু প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন'। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এ আইনের তাৎপর্য অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান: এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়।
২. দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম: এ আইনের বলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট 'পাকিস্তান' এবং ১৫ আগস্ট 'ভারত' নামে দুটি পৃথক ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
৩. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটিয়ে দেশীয় রাজ্যগুলোকে ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা প্রদান করা হয়।
৪. সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা: নবগঠিত উভয় রাষ্ট্রকেই নিজ নিজ গণপরিষদের মাধ্যমে নিজস্ব সংবিধান তৈরি করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
৫. দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের অবসান: হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও সাম্প্রদায়িক জটিলতা নিরসনে আইনটি চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে।পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে এবং আধুনিক দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও