সাহিত্য পাঠ • কলিমদ্দি দফাদার • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কলিমদ্দি দফাদার ষাটোর্ধ্ব। তিনি সরকারি চাকরি করেন; পাক-সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর ডিউটি। তাই মানুষ তাকে রাজাকার ভাবে। মুক্তিসংগ্রামে যেতে না পারায় তাঁর মনে দুঃখ। কিন্তু সুযোগ পেয়ে একবার একদল পাক হানাদার বাহিনীকে ভুল পথ দেখিয়ে বিপদে ফেলেছিলেন। এটাও তাঁর মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ, কলিমদ্দি স্বস্তি পায় দেশের পক্ষে কাজ করতে পেরে।

  1. ক)

    অফিসের জন্য কয়টি আলমারি কেনা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    ঠান্ডা হাওয়ার ধাক্কা রেইনকোটের তাপে গরম হয়ে ওঠার কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    কলিমদ্দি দফাদারের সাথে 'রেইনকোট' পক্ষের নুরুল হুদার বৈসাদৃশ্য তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    “ঘটনার বৈপরীত্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে প্রবল দেশপ্রেম উজ্জীবিত ছিল।" — সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অফিসের জন্য একটি আলমারি কেনা হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে চড়িয়ে সাধারণ ও ভীতু নুরুল হুদার অন্তরে মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর মতো গভীর দেশপ্রেম ও অসীম সাহসের সঞ্চার হয়েছিল বলে ঠান্ডা হাওয়ার ধাক্কাও তার কাছে রেইনকোটের তাপে গরম মনে হয়েছিল। রেইনকোটটি শুধু বৃষ্টি থেকে রক্ষার আবরণ ছিল না, তা ছিল একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের উষ্ণ দেশপ্রেম, সাহস ও চেতনার প্রতীক। তাই বর্ষার হিমশীতল বাতাসের মধ্যেও সেটি নুরুল হুদার দেহে ও মনে প্রবল আত্মবিশ্বাস ও উষ্ণতা এনে দিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদার বৈসাদৃশ্য মূলত তাঁদের পেশাগত অবস্থান, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং শুরুতে যুদ্ধের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়।

    উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার ষাটোর্ধ্ব এক সরকারি চাকরিজীবী, যার সরাসরি ডিউটি ছিল পাকিস্তানি সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাকে ভুল বুঝে রাজাকার ভাবত। কিন্তু তিনি মনে মনে দেশের জন্য দুঃখ অনুভব করতেন এবং সচেতনভাবেই সুযোগ পেয়ে হানাদার বাহিনীকে ভুল পথে পরিচালিত করে বিপদে ফেলেন ও প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে নিজের ভূমিকা রাখেন।

    অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা ছিলেন একজন সাধারণ নিরীহ কলেজ শিক্ষক। তিনি রাজাকার বা পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতেন না, তবে ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকতেন এবং নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে চাইতেন। কলিমদ্দি যেমন স্বেচ্ছায় হানাদারদের ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিলেন, নুরুল হুদা কিন্তু প্রথমে তেমন কোনো প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা করেননি। বরং ঘটনাচক্রে শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে দেওয়ার পর তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের সাহস জন্ম নেয় এবং তিনি পাকিস্তানি মিলিটারি দ্বারা বন্দি ও নির্যাতিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য গোপন রেখে আত্মত্যাগ করেন। সুতরাং, সচেতন পরিকল্পনা বনাম আকস্মিক রূপান্তর এবং চরিত্রের বাহ্যিক ভূমিকার ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ; ঘটনার প্রেক্ষাপট ও চরিত্রের প্রকাশভঙ্গিতে বৈপরীত্য থাকলেও উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার এবং 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা উভয়ের মধ্যেই প্রবল দেশপ্রেম উজ্জীবিত ছিল।

    উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার বাইরে পাকিস্তানি বাহিনীর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় লোকচক্ষে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত হন। কিন্তু তাঁর মনের গভীরে ছিল তীব্র দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিতে পারার বেদনা। তাই সুযোগ পেয়েই তিনি হানাদারদের ভুল পথে পরিচালিত করে দেশের মুক্তিসংগ্রামে সক্রিয় অবদান রাখেন এবং মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন।

    অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পের নায়ক নুরুল হুদা ছিলেন অত্যন্ত ভিতু ও নিরীহ প্রকৃতির এক শিক্ষক, যিনি পরিবার ও নিজের প্রাণ বাঁচাতে যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতেও সতর্ক থাকতেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর ফেলে যাওয়া রেইনকোটটি পরার পর তাঁর মধ্যে এক অভাবনীয় মানসিক রূপান্তর ঘটে। হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখেও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ না করে বীরের মতো অবিচল থাকেন। রেইনকোটটির উষ্ণতা তাঁকে দেশপ্রেমিক যোদ্ধার ভূমিকায় অধিষ্ঠিত করে।

    অতএব দেখা যায়, কলিমদ্দির দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে পাকবাহিনীকে বিভ্রান্ত করার কৌশলী পদক্ষেপে, আর নুরুল হুদার দেশপ্রেম মূর্ত হয়েছে চরম নির্যাতনের মুখেও মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য রক্ষা করার অটল মনোভাবে। বাহ্যিক কর্মপদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকলেও উভয়ের মূল চালিকাশক্তি ছিল গভীর ও খাঁটি দেশপ্রেম। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন