সাহিত্য পাঠ • চেতনার অ্যালবাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আমানত কবির গরিব মানুষ। ঢাকা শহরের বিত্তশালী কাদির সাহেবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সে চাকরির জন্য কাদির সাহেবের কাছে সহযোগিতা চায়। কাদির সাহেব দয়া-পরবশ হয়ে তাকে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেন। পাশাপাশি বিনা ভাড়ায় তাকে নিজের বাসায় থাকার সুযোগ দেন। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই কাদির সাহেবের বাসাটিকে আমানত কবির নিজের বাসা বলে ঘোষণা দেয়। এর কয়েক দিন পর ঘুষ খাওয়ার অপরাধে আমানত কবিরের চাকরি চলে যায়। কাদির সাহেব আবার দয়া করে ভাল-ভাত খেয়ে বাঁচার জন্য আমানত কবিরকে অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেন।

  1. ক)

    'কবর' কোন ধরনের রচনা?

    (1)
  2. খ)

    "কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর"-কেন? বর্ণনা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপক এবং 'প্রতিদান' কবিতার চেতনা একই সূত্রে গাঁথা” মন্তব্যটি বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কবর' পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত একটি বিখ্যাত কাহিনী-কবিতা (কিংবা মুনীর চৌধুরী রচিত একটি নাটক; তবে 'প্রতিদান' কবিতার কবি জসীমউদ্দীন রচিত হওয়ায় এটি মূলত তাঁর সুবিখ্যাত কবিতা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্যায় ও আঘাতের বিনিময়ে ভালোবাসা ও ক্ষমা প্রদর্শন করার মহান মানবীয় মহত্ত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে কবি আলোচ্য কথাটি বলেছেন।

    'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন অহিংসা, ক্ষমা ও ভালোবাসার এক চিরন্তন মানবিক বাণী তুলে ধরেছেন। যে ব্যক্তি সমাজে কবির জীবনে কষ্ট বা 'কাঁটা' বিছিয়ে দেয়, কবি তার প্রতিশোধ না নিয়ে বরং তার প্রতি আজীবন ভালোবাসা বা 'ফুল' উপহার দেন। আঘাতের জবাবে প্রত্যাঘাত না করে ভালোবাসার মাধ্যমে শত্রুকে আপন করাই কবির এই আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কাদির সাহেবের পরোপকারী ও ক্ষমাসুন্দর মনোভাবের সাথে জসীমউদ্দীনের 'প্রতিদান' কবিতার মূল ভাবধারার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'প্রতিদান' কবিতায় কবি অনিষ্টকারীর প্রতিও কল্যাণকামনা করেছেন। যে ক্ষতি করে, কবি তার ঘর বাঁধেন এবং যে বুকে আঘাত হানে, কবি তাকে বুকে জড়িয়ে নেন। ভালোবাসার শক্তিতে কবি মানুষের মনের বিদ্বেষ দূর করতে চান।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কাদির সাহেব আমানত কবিরের প্রতি দয়াশীল হয়ে চাকরি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু আমানত কবির অকৃতজ্ঞ হয়ে তাঁর বাসা দাবি করে এবং দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারায়। তা সত্ত্বেও কাদির সাহেব কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে পুনরায় তাকে আরেকটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। কাদির সাহেবের এই অপকারীর প্রতি উপকার ও ক্ষমার আচরণ 'প্রতিদান' কবিতার আত্মত্যাগী ও পরোপকারী চেতনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপক এবং 'প্রতিদান' কবিতার চেতনা একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটি যথার্থ।

    'প্রতিদান' কবিতায় কবি নিঃস্বার্থ পরোপকার ও ক্ষমার দর্শন প্রচার করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিশোধ বা হিংসা দিয়ে হিংসাকে জয় করা যায় না; বরং অপরিসীম ধৈর্য, উদারতা এবং ভালোবাসার মাধ্যমেই চরম শত্রুকেও আপন করা সম্ভব। কবিতার প্রতিটি চরণে অপকারীর প্রতি অনাবিল কল্যাণকামনার জয়গান গাওয়া হয়েছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, কাদির সাহেব নিঃস্বার্থভাবে আমানত কবিরকে আশ্রয় ও জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। আমানত কবির তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁর বাড়ি দখল করার অপচেষ্টা চালায় এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। অথচ এমন চরম অকৃতজ্ঞতা ও ক্ষতিকর আচরণের মুখেও কাদির সাহেব প্রতিহিংসাপরায়ণ হননি। তিনি পরম ঔদার্যে আমানত কবিরকে দ্বিতীয়বার রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন এবং বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে অন্য একটি চাকরি পাইয়ে দেন।

    উদ্দীপকের কাদির সাহেবের এই মানসিকতা 'প্রতিদান' কবিতার “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর” বা “যে বুকে বসায় বিষের কাঁটা, তারে আমি দিই ফুল”-এর মহান আদর্শের বাস্তব রূপ। উভয় ক্ষেত্রেই অন্যায়কারীর প্রতি ক্ষমার হাত বাড়িয়ে এক মহৎ মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অতএব, বলা যায় যে উদ্দীপক এবং 'প্রতিদান' কবিতার চেতনা অভিন্ন ও একই সূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন