মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক জোহা সাহেব তাঁর ক্লাসে শিক্ষার্থীদেরকে বলেন, প্রেষণা শিক্ষণের অন্যতম শর্ত হলেও অনেক সময় প্রেষণা ছাড়াই শিক্ষণ সম্পন্ন হয়।দৃশ্যকল্প-২: একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাকিব দেখেছে, কোথাও আগুন লাগলে ধোঁয়া উড়ে, আর গাড়ির চালক সড়কে লাল বাতি দেখলে গাড়ি থামিয়ে দেন।

  1. ক)

    শিক্ষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষণে বলবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ জোহা সাহেবের বক্তব্যে যে ধরনের শিক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ রাকিবের দেখা দুটি ঘটনার মধ্যে নিহিত শিক্ষণের শর্ত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অতীত অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের ফলে আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তনকে শিক্ষণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিক্ষণে বলবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রাণীর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া বা আচরণকে শক্তিশালী ও স্থায়িত্ব দান করে। শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় বলবৃদ্ধির মাধ্যমে কোনো আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বলবৃদ্ধিহীন আচরণ কালক্রমে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া ইতিবাচক বা নেতিবাচক বলবৃদ্ধি প্রাণীকে সঠিক আচরণ শিখতে এবং ভুল আচরণ পরিহার করতে প্রেষণা জোগায়, যা শিক্ষণের গতি ও কার্যকারিতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ জোহা সাহেবের বক্তব্যে 'সুপ্ত শিক্ষণ' (Latent Learning) প্রকাশ পেয়েছে।

    যে শিক্ষণ কোনো প্রত্যক্ষ প্রেষণা বা তাৎক্ষণিক বলবৃদ্ধি (পুরস্কার) ছাড়াই ঘটে থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ বা বলবৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত আচরণে সরাসরি প্রকাশ পায় না, তাকে সুপ্ত শিক্ষণ বলে। মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড টলম্যান (Edward Tolman) ইঁদুরের ওপর গোলকধাঁধার পরীক্ষা চালিয়ে সুপ্ত শিক্ষণের ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করেন।

    উদ্দীপকে শিক্ষক জোহা সাহেব শিক্ষার্থীদের বলেছেন যে, প্রেষণা শিক্ষণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলেও অনেক সময় প্রত্যক্ষ প্রেষণা ছাড়াই শিক্ষণ সম্পন্ন হয়। টলম্যানের মতে, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা প্রেষণা ছাড়াও জীব তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় বা মানসিক মানচিত্র (Cognitive map) তৈরি করে। এই শেখা আচরণটি গোপনে বা সুপ্তাবস্থায় জমা থাকে এবং পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রেষণা বা বলবৃদ্ধি পেলে তা প্রকাশিত হয়। সুতরাং, জোহা সাহেবের এই বক্তব্যটি মনোবিজ্ঞানের সুপ্ত শিক্ষণের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ রাকিবের দেখা দুটি ঘটনার মধ্যে নিহিত শিক্ষণের প্রধান শর্ত হলো 'অনুষঙ্গ' (Association) এবং এর অধীনে নৈকট্য ও সংযোগের শর্ত প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    রাকিবের দেখা প্রথম ঘটনাটি হলো—'কোথাও আগুন লাগলে ধোঁয়া ওড়ে'। এটি শিক্ষণের অনুষঙ্গমূলক নিয়মের 'নৈকট্যের নিয়ম' বা 'উদ্দীপক-উদ্দীপক অনুষঙ্গ' (S-S Association)-কে নির্দেশ করে। আগুন এবং ধোঁয়া বাস্তবে প্রায় সবসময়ই একসাথে বা একের পর এক অত্যন্ত কাছাকাছি সময়ে আবির্ভূত হয়। স্থান ও কালের নৈকট্যের কারণে মানুষের মনে আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে একটি মানসিক সংযোগ বা অনুষঙ্গ তৈরি হয়। ফলে ধোঁয়া দেখলেই মানুষ আগুনের উপস্থিতি শিখে নেয় বা অনুমান করে।

    দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো—'গাড়ির চালক সড়কে লাল বাতি দেখলে গাড়ি থামিয়ে দেন'। এটি নির্দেশ করে 'উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া অনুষঙ্গ' (S-R Association) বা অনুবর্তনের শর্ত। এখানে লাল বাতি হলো একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপক এবং গাড়ি থামানো হলো চালকের অর্জিত প্রতিক্রিয়া। ট্রাফিক নিয়মের বারবার অনুশীলন, ইতিবাচক/নেতিবাচক বলবৃদ্ধি (দুর্ঘটনা এড়ানো বা জরিমানা থেকে রক্ষা) এবং সংযোগের ফলে চালক লাল বাতি দেখা মাত্রই গাড়ি থামানোর আচরণটি রপ্ত করেছেন। এটি মূলত চিরায়ত বা কার্যকর অনুবর্তনের ফল।

    সার্বিকভাবে বলা যায়, রাকিবের প্রত্যক্ষ করা দুটি ঘটনার মূলে রয়েছে শিক্ষণের মৌলিক শর্তসমূহ—বিশেষ করে দুটি উদ্দীপকের নৈকট্য এবং উদ্দীপকের সাথে নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার অনুষঙ্গ স্থাপন। এভাবেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে মানুষ পরিবেশের বিভিন্ন ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ আচরণ শেখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন