উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব স্বপন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার উচ্চস্তরে কর্মরত। তিনি বিপণন মিশ্রণের সঠিক কৌশল নির্ধারণে কার্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠিতকরণ, প্রেষণাদান এবং নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করেন। তিনি মনে করেন,বিপণন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোম্পানির উচিত ভোক্তার অভাব, কোম্পানির প্রয়োজন, ভোক্তা ও সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করা।
- ক)(1)
বিনিময় কী?
- খ)(2)
‘বিপণন মুনাফামুখী’ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব স্বপনের কার্যক্রম দ্বারা বিপণনের কোন বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বিপণন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কে জনাব স্বপনের মন্তব্যের বিপণন দর্শন উল্লেখপূর্বক এর যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রয়োজনীয় কোনো কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য পক্ষকে তার বিনিময়ে মূল্যবান কোনো বস্তু প্রদান করার প্রক্রিয়াকে বিনিময় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিপণন মুনাফামুখী'- কথাটির অর্থ হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জন করা।
মুনাফা অর্জন ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে না। তবে আধুনিক বিপণনে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত লাভ করার চেয়ে ভোক্তার প্রয়োজন ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে নিয়মিত মুনাফা অর্জনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ ভোক্তা সন্তুষ্টির মাধ্যমে টেকসই লাভ অর্জন করাই বিপণনের মূল লক্ষ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব স্বপনের কার্যক্রম দ্বারা বিপণনের ‘ব্যবস্থাপকীয় প্রক্রিয়া’ (Managerial Process) বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে।
বিপণন কেবল পণ্য কেনা-বেচার কাজ নয়; এটি একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপকীয় প্রক্রিয়া। এর আওতায় লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠন, প্রেষণাদান, কর্মীসংস্থান, সমন্বয়সাধন এবং বিপণন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এসব কাজের মাধ্যমেই সামগ্রিক বিপণন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যমুখীভাবে বাস্তবায়িত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব স্বপন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার উচ্চস্তরে কর্মরত থেকে বিপণন মিশ্রণের সঠিক কৌশল নির্ধারণে কার্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠিতকরণ, প্রেষণাদান এবং নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করেন। এই কার্যাবলি সরাসরি বিপণন ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বগুলোকে নির্দেশ করে। সুতরাং, তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বিপণনের ব্যবস্থাপকীয় বৈশিষ্ট্যটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব স্বপনের মন্তব্যে বিপণনের ‘সামাজিক বিপণন মতবাদ’ (Societal Marketing Concept) বা দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে এবং তাঁর এই মূল্যায়ন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
সামাজিক বিপণন মতবাদ অনুযায়ী, কোনো বিপণন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনটি মূল স্তম্ভ বিবেচনা করা আবশ্যক: ক্রেতার সন্তুষ্টি, প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বা উদ্দেশ্য এবং সমাজের সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ। কেবল মুনাফা অর্জন বা তাৎক্ষণিক অভাব পূরণ করলেই চলে না, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং মানবকল্যাণের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করাও আধুনিক বিপণনের অন্যতম দায়িত্ব।
উদ্দীপকে জনাব স্বপন মনে করেন, বিপণন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোম্পানির উচিত ভোক্তার অভাব, কোম্পানির প্রয়োজন এবং ভোক্তা ও সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করা। এই ধারণাটি হুবহু সামাজিক বিপণন দর্শনের মূল সুরকে নির্দেশ করে।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে যেসব প্রতিষ্ঠান শুধু নিজেদের লাভ দেখে কিংবা ক্ষতিকর পণ্য দিয়ে তাৎক্ষণিক অভাব পূরণ করে, তারা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সমাজ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করলে একদিকে ভোক্তার দীর্ঘমেয়াদি সন্তুষ্টি ও আস্থা অর্জিত হয়, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও টেকসই সাফল্য নিশ্চিত হয়। তাই বিপণন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমাজের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণকে বিবেচনায় নেওয়ার স্বপনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও