পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শোভন স্বাভাবিকভাবে পড়তে পারে না। কিন্তু থেমে থাকেনি তার পথ চলা। সে ব্রেইল পদ্ধতিতে তার শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি লেখক এর সহায়তা সে অনার্স পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়।
- ক)(1)
ইভটিজিং কী?
- খ)(2)
অটিজম বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
শোভন কোন ধরনের প্রতিবন্ধী? তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শোভনের ন্যায় জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কী করণীয় তা তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইভটিজিং হলো প্রকাশ্যে বা জনসমক্ষে নারী বা কিশোরীদের উদ্দেশ্য করে উত্ত্যক্ত করা, অশোভন অঙ্গভঙ্গি বা অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা বা যৌন হয়রানি করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অটিজম হলো মানুষের মস্তিষ্ক বা স্নায়বিক বিকাশজনিত একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা (নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার)।
অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন, পারস্পরিক ভাববিনিময় বা আবেগ প্রকাশে সমস্যার মুখোমুখি হন। তারা প্রায়ই একই ধরনের আচরণ বারবার প্রদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের মতো সহজে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া করতে পারেন না। এটি কোনো মানসিক রোগ বা ছোঁয়াচে ব্যাধি নয়, বরং একটি বিশেষ বিকাশজনিত সীমাবদ্ধতা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শোভন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রধান সমস্যাগুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো:
১. শিক্ষা অর্জনের সীমাবদ্ধতা: ব্রেইল বই এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিখন উপকরণের অপ্রতুলতার কারণে তারা সহজে উচ্চশিক্ষা বা স্বাভাবিক শিক্ষা অর্জন করতে পারে না।
২. মুক্ত চলাচলের বাধা: দৃষ্টিশক্তি না থাকায় স্বাধীন ও নিরাপদভাবে চলাফেরা করা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা প্রতিকূল অবকাঠামোর মুখোমুখি হয়।
৩. কর্মসংস্থানে বঞ্চনা: সমাজে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষমতা নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার কারণে তারা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
৪. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পরনির্ভরশীলতা: দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রায়ই অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং সমাজে অবহেলা ও করুণার শিকার হতে হয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শোভনের ন্যায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি:
১. ব্রেইল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সম্প্রসারণ: পাঠ্যপুস্তক ব্রেইল পদ্ধতিতে সুলভ করা, ব্রেইল লাইব্রেরি স্থাপন এবং স্ক্রিন-রিডার সফটওয়্যার ও অডিও সহায়তার মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
২. সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য বিশেষ ফুটপাথ, ট্যাকটাইল পেভিং, গণপরিবহনে সহজগম্যতা এবং সাউন্ড-সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা আবশ্যক।
৩. কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি: যোগ্যতা অনুযায়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরির কোটা যথাযথভাবে কার্যকর করা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
৪. আইন ও অধিকারের বাস্তবায়ন: 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩' কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে তাদের মৌলিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়।
৫. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: প্রতিবন্ধীদের সমাজের করুণার পাত্র হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় মানবসম্পদ হিসেবে মূল্যায়নে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।পরিশেষে, রাষ্ট্র ও সমাজের ইতিবাচক সহযোগিতা এবং সুযোগ সৃষ্টি পেলে শোভনের মতো প্রতিবন্ধীরা জাতীয় উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও